আইন মন্ত্রণালয় আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক লাউঞ্জে একটি বৈঠক আয়োজনের মাধ্যমে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন ও কমিশনারদের নির্বাচন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি নতুন নিয়োগের সুপারিশ করবে, যা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কার্যক্রমকে পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে গৃহীত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের জানাতে, কমিটির প্রধান হিসেবে আপিল বিভাগীয় বিচারপতি ফারাহ মাহবুবকে নির্ধারিত করা হয়েছে; তিনি আগামীকাল সন্ধ্যায় নির্ধারিত বৈঠকের অধিনায়ক হবেন। কমিটির বৈঠকটি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সদস্যরা একত্রিত হয়ে নিয়োগের মানদণ্ড ও প্রক্রিয়া নির্ধারণের জন্য আলোচনা করবেন।
এই কমিটি গঠনের আইনি ভিত্তি হল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আদেশ, ২০২৫, যা মানবাধিকার সংস্থার স্বতন্ত্রতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট নিয়মাবলী স্থাপন করে। আদেশের ধারায় উল্লেখ আছে যে, চেয়ারপার্সন ও কমিশনারদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বতন্ত্র ও ন্যায়সঙ্গত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে, যাতে সংস্থার কার্যকারিতা ও জনবিশ্বাস বজায় থাকে।
কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ক্যাবিনেট সেক্রেটারি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রফেসর শাহনাজ হুদা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-চ্যান্সেলর প্রফেসর আবদুল হাসিব চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ এবং পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের প্রাক্তন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কুবোলেশ্বর ত্রিপুরা। এই সদস্যগণ প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা নিয়ে কমিটিতে অংশগ্রহণ করবেন।
ক্যাবিনেট সেক্রেটারি সরকারী প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শাহনাজ হুদা, যিনি আইন শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশিষ্ট, মানবাধিকার সংক্রান্ত আইনি কাঠামো বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞ। প্রফেসর আবদুল হাসিব চৌধুরী, যিনি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষার উন্নয়নে দীর্ঘদিন কাজ করছেন, তার বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি কমিটিতে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে। প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ মিডিয়া ও প্রকাশনা ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবেন, আর কুবোলেশ্বর ত্রিপুরা পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও প্রকৌশল নীতির বাস্তবিক জ্ঞান প্রদান করবেন।
গত নভেম্বর ২০২৪-এ, আওয়ামী লীগ শাসনকালে নিযুক্ত মানবাধিকার কমিশনের সদস্যরা প্রফেসর ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত অস্থায়ী সরকারের গঠনের পর পদত্যাগ করেন। আগস্ট ২০২৪-এ অস্থায়ী সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে এই পদত্যাগের ধারাবাহিকতা দেখা যায়, যা কমিশনের কার্যক্রমে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করে। সেই শূন্যতা পূরণে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা যায়।
কমিটির গঠনকে মানবাধিকার সংস্থার পুনর্গঠন ও কার্যকরীতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। নতুন চেয়ারপার্সন ও কমিশনারদের নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও ন্যায়পরায়ণতার নীতিতে পরিচালিত হবে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
কমিটি আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিক বৈঠক সম্পন্ন করে প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পত্র জমা দেবে। এরপর আইন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সরকারী সংস্থা এই সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেবে। এই প্রক্রিয়ার সময়সীমা সংক্ষিপ্ত রাখার লক্ষ্য রয়েছে, যাতে মানবাধিকার সংস্থার কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, নতুন কমিশনের গঠন ও নিয়োগের মাধ্যমে বর্তমান সরকার মানবাধিকার সংস্থার স্বতন্ত্রতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে চায়। একই সঙ্গে, পূর্বের শাসনকালের সদস্যদের পদত্যাগের পর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনবিশ্বাস পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে। ভবিষ্যতে মানবাধিকার সংস্থার শক্তিশালী নেতৃত্ব দেশের মানবাধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
কমিটির কাজ শেষ হওয়ার পর, নতুন চেয়ারপার্সন ও কমিশনারদের দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু হবে। এই নতুন নেতৃত্বের অধীনে মানবাধিকার সংস্থা নীতি নির্ধারণ, অভিযোগ শোনা ও সমাধান, এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করবে। এভাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনরায় কার্যকরী ও স্বচ্ছ সংস্থা হিসেবে কাজ করবে, যা দেশের মানবাধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে।



