যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশে রায়দূত মার্শা বার্নিকাট ১৩ জানুয়ারি ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জিয়ার নেতৃত্বের ধরণ ভবিষ্যতে অঞ্চলের রাজনৈতিক সংস্কার ও শাসনব্যবস্থার উন্নয়নে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
বার্নিকাটের মন্তব্যের পটভূমি হল দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবেশ, যেখানে দুই প্রধান দল—আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—মধ্যস্থ রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, জিয়ার দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তার অংশগ্রহণ দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
খালেদা জিয়া, যিনি দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপার্সন, তার নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্যকে বার্নিকাট “দক্ষতা, দৃঢ়তা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি যুক্তি দেন, জিয়ার নেতৃত্বের পদ্ধতি বিশেষ করে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায় আসনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও অনুকরণীয় হতে পারে।
বার্নিকাটের মন্তব্যের পর, দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশে কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তারা উল্লেখ করেন, এই ধরনের প্রশংসা দু’পক্ষের কূটনৈতিক সংলাপকে শক্তিশালী করতে পারে এবং ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। তবে কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করেন, রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত প্রশংসা কেবলমাত্র নীতি ও কর্মের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত।
এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীও নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছে। বিএনপি নেতারা বার্নিকাটের প্রশংসাকে জিয়ার রাজনৈতিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন, আর আওয়ামী লীগ কিছুটা সংযত দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেছে, যেখানে তারা দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক অগ্রগতির ওপর জোর দিয়েছে।
বার্নিকাটের মন্তব্যের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেছে, এই সংলাপের মাধ্যমে শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা, মানবাধিকার ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এভাবে, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের উদাহরণকে ভিত্তি করে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপনের সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে।



