ইরান ২০২১ সালের অক্টোবর মাস থেকে রাশিয়াকে সামরিক সরঞ্জাম ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে আসছে, যার মোট মূল্য প্রায় ২.৭ বিলিয়ন ডলার, এটা একটি পশ্চিমা নিরাপত্তা কর্মকর্তার মূল্যায়ন অনুযায়ী। এই সরবরাহের সময়সীমা ইউক্রেনের পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ শুরু হওয়ার আগে শেষ হয়েছে। রাশিয়া ও তেহরানের এই সামরিক সহযোগিতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তীব্রতর হয়েছে।
প্রদানকৃত অস্ত্রের তালিকায় শত শত ফাতাহ‑৩৬০ স্বল্পপাল্লা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, প্রায় ৫০০টি অন্যান্য স্বল্পপাল্লা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ২০০টি ভূমি‑থেকে‑আকাশে নিক্ষেপযোগ্য রকেট অন্তর্ভুক্ত। এসব সিস্টেম রাশিয়ার সামরিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রু বায়ু ও ভূমি লক্ষ্যবস্তু দমন করতে।
রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আক্রমণ চালু করার পর থেকে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এই সময়ে রাশিয়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়, যা তার অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রবেশকে সীমিত করে। তেহরানের সমর্থন রাশিয়ার জন্য বিকল্প সরবরাহ চ্যানেল হিসেবে কাজ করছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উভয়ই এই অস্ত্র সরবরাহ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি। তাছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহারে কঠোর সীমাবদ্ধতা এবং কার্যত ব্ল্যাকআউটের কারণে উভয় দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগও সীমিত রয়েছে।
অস্ত্র সরবরাহের পাশাপাশি ইরান রাশিয়াকে লক্ষ লক্ষ রাউন্ড গোলাবারুদ ও শেলও পাঠিয়েছে, যা সামরিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরণের লজিস্টিক সহায়তা রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ভবিষ্যতে অতিরিক্ত সরঞ্জাম সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে রাশিয়াকে ইরান শাহেদ‑১৩৬ “কামিকাজে” ড্রোন সরবরাহ করে, এবং সেই প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে রাশিয়া নিজ দেশে “গেরান‑২” নামে ড্রোন উৎপাদন শুরু করেছে। ২০২৩ সালের শুরুর দিকে দুই দেশ ১.৭৫ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার অধীনে ড্রোন, রকেট এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি সরবরাহ করা হয়।
মোটামুটি হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ সালের শেষ দিক থেকে রাশিয়া ইরানি সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ে চার বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই পরিমাণে অস্ত্র, গুলি, ড্রোন এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত, যা রাশিয়ার সামরিক বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ গঠন করে।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলেন, ইরানের এই সরবরাহ রাশিয়াকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পরেও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা প্রদান করে, একই সঙ্গে ইরানকে তার ভূ-রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা কমাতে সহায়তা করে। তবে এই পারস্পরিক সহযোগিতা অঞ্চলীয় নিরাপত্তা ও শক্তি ভারসাম্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ দাবি করে। ভবিষ্যতে যুদ্ধের গতি ও নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত অস্ত্র সরবরাহের সম্ভাবনা রয়ে গেছে, তাই এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে।



