গাজীপুরের মোহাম্মদ জুয়েল পরিচালিত ‘জুয়েল বিনোদন ০২’ পেজটি, যার অনুসারী সংখ্যা প্রায় সাতাত্তর হাজার, প্রাণীকে আঘাত করে ভিডিও তৈরি করে অনলাইন ভিউ বাড়াচ্ছে। এক বছর ধরে তিনি বানরকে ডেকে তার মুখে আটা ও ময়দা ছুঁড়ে ফেলা দৃশ্যগুলো পোস্ট করছেন, যা প্রাণী কল্যাণ আইন অনুযায়ী অপরাধসিদ্ধ।
প্রাণী অধিকার সংস্থা ‘অভয়ারণ্য‑বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র প্রতিষ্ঠাতা রুবাইয়া আহমেদ উল্লেখ করেছেন যে, এ ধরনের কন্টেন্টের স্রষ্টা মানসিক অস্বাস্থ্যগ্রস্ততার শিকার এবং তাৎক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করা উচিত। তিনি অনুসারীদেরকে শেয়ার না করে সংশ্লিষ্ট পেজ বা আইডি সম্পর্কে অভিযোগ জানাতে আহ্বান জানিয়েছেন।
রুবাইয়া আহমেদ আরও জানান, ভিউ‑বাণিজ্যের তাগিদে কন্টেন্ট নির্মাতারা প্রাণীকে যেকোনো রূপে ব্যবহার করছেন, যার ফলে শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে; ট্রেনের নিচে ধসে পড়া, গাড়ি দুর্ঘটনা ইত্যাদি ঘটনা ভিউ বাড়ানোর জন্য রেকর্ড করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের কন্টেন্টের প্রচার সমাজে অনৈতিক প্রবণতা গড়ে তুলছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাকিব মাহবুবের মতে, বাংলাদেশে ২০১৯ সালের ‘প্রাণী কল্যাণ আইন’ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তার কার্যকরী প্রয়োগে ঘাটতি রয়েছে। আইনটি প্রাণীকে বিনোদন বা ক্রীড়া ক্ষেত্রে ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় নিষ্ঠুর আচরণ বা সহায়তা করা—এই সবকেই অপরাধ হিসেবে নির্ধারণ করেছে।
আইনের ধারা ৬(৩), ৭(২), ৮(২), ৯(৩), ১২(৬) ও ১৩(৩) অনুযায়ী, অপরাধ সংঘটন বা সহায়তার জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা হতে পারে। তবে সাকিব মাহবুব উল্লেখ করেন, এই আইনের অধীনে মামলা দায়েরের অধিকার কেবল সরকারী প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরেরই আছে; সাধারণ নাগরিক সরাসরি মামলা করতে পারে না।
অধিদপ্তরের কাছে অভিযোগ গ্রহণের জন্য কোনো নিবেদিত সেল নেই, ফলে জনসাধারণের জানানো অভিযোগ প্রায়শই নীরব থাকে। রুবাইয়া আহমেদ এই পরিস্থিতি তুলে ধরে, নাগরিকদেরকে অধিদপ্তরে চিঠি লিখে জানাতে এবং সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার না করে রিপোর্ট করতে পরামর্শ দেন।
প্রাণী কল্যাণ আইন, যদিও আইনগতভাবে শক্তিশালী, তবু বাস্তবায়নের অভাবে প্রাণী নির্যাতনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন কন্টেন্টের ক্ষেত্রে, ভিউ‑বাণিজ্যের লোভে সৃষ্ট এই ধরনের কন্টেন্টের দ্রুত বিস্তার নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারী তদারকি ও শাস্তি প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।
অধিক তথ্য ও তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান কার্যকর হয় এবং প্রাণী নির্যাতনের শিকার প্রাণীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।



