গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে ‘ভোটের গাড়ি’ উদ্বোধন করা হয়, এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ অনুষ্ঠানে সতর্কবার্তা দেন যে ‘না’ ভোটের পক্ষে গিয়ে পার্টি সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের সম্ভাবনা হারাবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি মঙ্গলবার, বাংলামোটরের এনসিপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে নাহিদ ইসলাম গণভোটের গুরুত্ব ও তার ফলাফলকে সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, যা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংস্কারে জনমত সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত।
এনসিপি অনুসারে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানোর দায়িত্ব সব রাজনৈতিক দলেরই ছিল। তবে নাহিদের মতে, কিছু দল ‘না’ ভোটের পক্ষে কথা বলা শুরু করেছে এবং তা জনগণের স্বার্থের বিরোধী। তিনি উল্লেখ করেন, ঐ দলটি পূর্বে সংস্কার কমিশন হিসেবে কাজ করলেও সরকারকে সংস্কার না করার দাবি করে, এবং জুলাই অভ্যুত্থানের পর কোনো সংস্কারের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছিল।
নাহিদের বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ‘না’ ভোটের পক্ষে গিয়ে দলটি জনগণের বিরোধী হয়ে যাবে এবং নির্বাচনে জয়লাভের সম্ভাবনা হারাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে থাকা, সংস্কারের পক্ষে থাকা, এবং জনগণের মঙ্গলে কাজ করা—এগুলোই জয় নিশ্চিত করার মূল শর্ত।
একই সময়ে, নাহিদ একটি দলকে সমালোচনা করেন, যারা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ইত্যাদি বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করার কথা বলছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই কার্ডের জন্য যে অর্থ সংগ্রহ করা হবে, তার উৎস কী হবে। তিনি সতর্ক করেন, যদি এই কার্ডের জন্য অতিরিক্ত কর বা ভ্যাট বৃদ্ধি করা হয়, তবে তা জনগণের ওপর আরেকটি বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন, এমন কার্ডের সুবিধা কেবল দলীয় লোকদেরই পাওয়া সম্ভব হতে পারে, ফলে দলীয়করণ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বাড়বে।
নাহিদের মতে, সস্তা প্রচারমূলক কৌশল দিয়ে ভোটারকে আকৃষ্ট করা সম্ভব নয়। তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনের উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেন, যখন একটি দল সরকারে এসে ১০ টাকায় চাল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যা দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। আজকের ভোটাররা সেই সময়ের ভুল থেকে শিখে গেছে এবং আর সহজে প্রভাবিত হবে না।
বিষয়টি আরও জোরালো হয়েছে যখন নাহিদ উল্লেখ করেন, জনগণ ১৬ বছর ধরে ভোট দিতে পারেনি, ফলে ভোটের মূল্য আর কেনা যাবে না। তিনি এই কথাটি দিয়ে বোঝাতে চান, ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কোনো দলই সহজে ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা অর্জন করতে পারবে না।
অন্তর্বর্তী সরকারও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে, যা গণভোটের ফলাফলকে সরকারী নীতি ও সংস্কার পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে চায়। নাহিদের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, নতুবা তারা নির্বাচনী পরিসরে দুর্বল অবস্থানে পড়বে।
গণভোটের ফলাফল সরাসরি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। যদি ‘হ্যাঁ’ ভোটের হার বেশি হয়, তবে সংস্কারমূলক নীতি বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে শক্তিশালী ম্যান্ডেট পাওয়া সম্ভব হবে। অন্যদিকে, ‘না’ ভোটের ফলাফল সরকারী পরিকল্পনার ওপর প্রশ্ন তুলতে পারে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
সারসংক্ষেপে, নাহিদ ইসলাম ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন না করলে রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে জয়লাভের সম্ভাবনা হারাবে বলে সতর্ক করেছেন। তিনি দলীয় নীতি, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং ভোটার সচেতনতার দিক থেকে সমালোচনা তুলে ধরেছেন, এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণভোটের ফলাফলকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।



