Superorganism, প্রকৃতি‑সংরক্ষণে বিশেষায়িত একটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম, তার প্রথম ফান্ডের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে। এই ফান্ডে সিস্কো ফাউন্ডেশন, AMB হোল্ডিংস, Builders Vision এবং Andreessen Horowitz‑এর পার্টনার জেফ জর্ডানসহ বহু প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী মোট ২৫.৯ মিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফান্ডের মূল লক্ষ্য হল প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় কাজ করা স্টার্টআপগুলোকে আর্থিক সমর্থন প্রদান করা।
ফার্মটি ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং নিজেকে বায়োডাইভার্সিটি‑কেন্দ্রিক প্রথম ভেঞ্চার ক্যাপিটাল হিসেবে উপস্থাপন করে। এর মিশন হল প্রকৃতির সুরক্ষাকে ক্যাপিটাল টেবিলের অংশ করে তোলা, যাতে পরিবেশ‑সচেতন ব্যবসা গুলোকে মূলধন বাজারে প্রবেশের সুযোগ মিলতে পারে।
Superorganism তিনটি প্রধান সেক্টরে বিনিয়োগ করে: প্রজাতি হ্রাস রোধ বা উল্টে দেওয়ার প্রযুক্তি, জলবায়ু ও বায়োডাইভার্সিটির সংযোগস্থলে কাজ করা উদ্যোগ, এবং সংরক্ষণকারীদের কাজকে সহজতর করার জন্য টুল ও প্ল্যাটফর্ম। প্রি‑সিড ও সিড পর্যায়ের স্টার্টআপগুলোকে ২৫০,০০০ থেকে ৫০০,০০০ ডলার পর্যন্ত চেক প্রদান করা হয়, যা প্রাথমিক পর্যায়ের উদ্ভাবকদের জন্য যথেষ্ট তহবিল সরবরাহ করে।
ফান্ডের আর্থিক মডেলে একটি দাতব্য উপাদানও যুক্ত রয়েছে। Superorganism তার মুনাফার দশ শতাংশ ভবিষ্যৎ সংরক্ষণ প্রকল্পে দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা পরিবেশ‑সচেতন বিনিয়োগের নতুন মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ম্যানেজিং ডিরেক্টর কেভিন ওয়েবের মতে, এই ফান্ডের কাজকে জলবায়ু‑টেক ফান্ডের সঙ্গে তুলনা করা যায়, তবে কার্বন নির্গমন কমানোর পরিবর্তে প্রকৃতির ক্ষতি কমানোর দিকে মনোযোগ দেয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি স্পষ্ট মানদণ্ড স্থাপন করে, যেখানে পরিবেশগত ক্ষতি হ্রাসই মূল সাফল্যের মাপকাঠি।
ফার্মের প্রাথমিক পোর্টফোলিওতে রয়েছে Spoor নামের একটি স্টার্টআপ, যা কম্পিউটার ভিশন ব্যবহার করে পাখির গমন‑পথ ও মাইগ্রেশন প্যাটার্ন ট্র্যাক করে। এই প্রযুক্তি বায়ু টারবাইন পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোকে পাখির আঘাত কমাতে সহায়তা করে, ফলে পরিবেশগত নিয়মাবলী মেনে চলা সহজ হয় এবং প্রকল্পের বিলম্ব বা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমে।
Spoor-এর সমাধান বাজারে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা পূরণ করে: একদিকে পাখি সংরক্ষণে সরাসরি অবদান রাখে, অন্যদিকে নবায়নযোগ্য শক্তি খাতের জন্য নিয়ন্ত্রক সম্মতি সহজ করে, যা বিনিয়োগের রিটার্ন বাড়ায়। এ ধরনের দ্বিমুখী সুবিধা বায়োডাইভার্সিটি স্টার্টআপের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা প্রমাণ করে।
কেভিন ওয়েব ২০২২ সালে বায়োডাইভার্সিটি‑কেন্দ্রিক এঞ্জেল ইনভেস্টমেন্ট শুরু করেন, যাতে এই সেক্টরে ভেঞ্চার ফান্ডের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা যায়। তিনি টম কুইগলিকে, যিনি পরিবেশ প্রযুক্তিতে বিশেষজ্ঞ, তার পটভূমি দেখে যোগাযোগ করেন এবং দুজনেই ২০২২ সালে ফার্মের কাঠামো গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। এক বছর পর, ২০২৩ সালে Superorganism আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়।
এই ফান্ডের উত্থান এমন একটি রাজনৈতিক ও নিয়ন্ত্রক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে সরকার ও বড় কর্পোরেশনগুলো প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার দিকে বাড়তি মনোযোগ দিচ্ছে। পরিবেশগত নীতি শক্তিশালী হওয়ায় বায়োডাইভার্সিটি‑সংক্রান্ত প্রকল্পের জন্য তহবিলের প্রবাহ বাড়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৫.৯ মিলিয়ন ডলারের এই প্রাথমিক মূলধন প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বায়োডাইভার্সিটি প্রযুক্তিতে আস্থা প্রকাশের সূচক। ছোট পরিমাণের প্রি‑সিড ও সিড তহবিল, পাশাপাশি মুনাফার একটি অংশ দান করার মডেল, পরিবেশগত স্টার্টআপগুলোর জন্য আর্থিক ও সামাজিক উভয় দিক থেকে আকর্ষণীয় করে তুলছে।
তবে এই সেক্টরে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়ে গেছে। প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব মাপা কঠিন হওয়ায় বিনিয়োগকারীর জন্য রিটার্নের পূর্বাভাস জটিল হতে পারে। এছাড়া, দীর্ঘমেয়াদী নিয়ন্ত্রক অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং নীতি পরিবর্তনের অনিশ্চয়তা স্টার্টআপের স্কেল‑আপ গতি ধীর করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, Superorganism-এর প্রথম ফান্ড বায়োডাইভার্সিটি‑কেন্দ্রিক ভেঞ্চার ক্যাপিটালের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। যদি পোর্টফোলিও কোম্পানিগুলো তাদের প্রযুক্তি সফলভাবে বাজারে চালু করতে পারে, তবে এই মডেল অনুকরণ করে আরও ফান্ড গঠন হতে পারে, যা পরিবেশগত উদ্ভাবনের জন্য মূলধনের প্রবাহ বাড়াবে এবং ইম্প্যাক্ট ইনভেস্টিংয়ের একটি নতুন শাখা গড়ে তুলবে।



