চট্টগ্রাম রয়্যালস দলটি পাকিস্তানি ওপেনার ও উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ হারিসকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ইংল্যান্ডের উইকেটরক্ষক‑ব্যাটার রসিংটন আঙুলের আঘাতের কারণে সিরিজ থেকে বাদ পড়ার ফলে দলটি বিকল্প খুঁজে বের করেছে। এই পরিবর্তনটি চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে ঘটছে, যেখানে দলটি ইতিমধ্যে প্লে‑অফের স্থান নিশ্চিত করেছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চট্টগ্রাম রয়্যালসের পূর্বের মালিকানার হাতছাড়া করার পর দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নতুন ব্যবস্থাপনা কাঠামোর অধীনে টিম ডিরেক্টর হিসেবে হাবিবুল বাশার সুমন নিযুক্ত হয়েছেন এবং প্রধান কোচের দায়িত্ব মিজানুর রহমান বাবুলের হাতে। এই দুজনের নেতৃত্বে দলটি সিলেট পর্বে সাতটি ম্যাচের মধ্যে পাঁচটি জয় অর্জন করে প্লে‑অফের টিকিট পেয়েছে।
সিলেট পর্বে অর্জিত এই সাফল্য দলকে আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করেছে, তবে রসিংটনের অনুপস্থিতি উইকেটরক্ষক পজিশনে ফাঁক তৈরি করেছে। রসিংটনের বিকল্প হিসেবে প্রথমে ইংল্যান্ডের ফিল সল্ট এবং অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডাম লাথামকে নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল, তবে উভয় খেলোয়াড়ই চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে দলটি বিকল্প সন্ধানে নতুন দিগন্তের দিকে তাকাতে বাধ্য হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানি ওপেনার‑উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ হারিসের নাম উঠে এসেছে। হারিসের সঙ্গে আলোচনাটি ইতিমধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে হাবিবুল বাশার সুমন জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “মোহাম্মদ হারিসের সঙ্গে চুক্তি শেষের দিকে, এবং তিনি শীঘ্রই দলে যোগদান করতে পারেন।” এই বিবৃতি দলটির বিকল্প পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়।
মোহাম্মদ হারিসের যোগদান চট্টগ্রাম রয়্যালসের ব্যাটিং ও উইকেটরক্ষক উভয় দিকেই অতিরিক্ত শক্তি যোগাবে। ওপেনার হিসেবে তার আক্রমণাত্মক শৈলী এবং উইকেটরক্ষক হিসেবে তার দক্ষতা দলকে ব্যাটিং শুরুর মুহূর্তে দ্রুত রনের প্রবাহ তৈরি করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে, রসিংটনের অনুপস্থিতিতে হারিসের উপস্থিতি উইকেটরক্ষক পজিশনের স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে।
দলটি এখন প্লে‑অফের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং হারিসের অন্তর্ভুক্তি এই পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। প্লে‑অফের ম্যাচগুলোতে দলটি কীভাবে তার নতুন সংযোজনকে কাজে লাগাবে তা শীঘ্রই স্পষ্ট হবে। তবে বর্তমান পর্যন্ত দলটি সিলেট পর্বে অর্জিত জয় এবং নতুন ব্যবস্থাপনার নেতৃত্বে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অগ্রসর হচ্ছে।
হাবিবুল বাশার সুমন এবং মিজানুর রহমান বাবুলের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম রয়্যালসের কৌশলগত পরিবর্তনগুলো ইতিমধ্যে ফলপ্রসূ হয়েছে। সিলেট পর্বে পাঁচটি জয় অর্জন দলকে প্লে‑অফে স্থান নিশ্চিত করেছে, এবং এখন দলটি রসিংটনের পরিবর্তে হারিসকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে ব্যাটিং ও উইকেটরক্ষক উভয় দিকেই সমন্বয় সাধন করতে চায়।
বিপিএল মৌসুমে দলটির এই পরিবর্তনগুলোকে সমর্থনকারী ভক্তদের প্রত্যাশা বাড়ছে। রসিংটনের আঘাতের পর দলটি দ্রুত বিকল্প খুঁজে বের করার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে, এবং এখন হারিসের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হলে দলটি নতুন শক্তি পাবে। ভক্তরা আশা করছেন, নতুন সংযোজন দলকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে এবং প্লে‑অফের পথে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
মোহাম্মদ হারিসের যোগদানের সম্ভাবনা সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও, হাবিবুল বাশার সুমনের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি। দলটি এই মুহূর্তে তার শেষ প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে প্লে‑অফের প্রতিটি ম্যাচে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দিতে পারে।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের নতুন ব্যবস্থাপনা দলটি এখনো ক্রীড়া বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে একটি উদাহরণস্বরূপ মডেল হিসেবে দেখা হচ্ছে। মালিকানা ছেড়ে যাওয়ার পর দ্রুত নতুন কাঠামো গড়ে তোলা এবং সিলেট পর্বে ধারাবাহিক জয় অর্জন করা দলটির সংগঠনগত দক্ষতা প্রকাশ করে। এখন হারিসের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হলে, দলটি আরও শক্তিশালী হয়ে প্লে‑অফে প্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখোমুখি হবে।
সর্বোপরি, চট্টগ্রাম রয়্যালসের বর্তমান অবস্থা একটি ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে। রসিংটনের আঘাতের পর দ্রুত বিকল্প খোঁজা, নতুন ব্যবস্থাপনা কাঠামোর অধীনে ধারাবাহিক জয় এবং সম্ভাব্য নতুন সংযোজন—all these factors together shape the team’s upcoming challenges in the playoff stage.



