গত বছরের মে মাসে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের তীব্র সামরিক সংঘর্ষে দুই দেশের সীমানা অস্থির হয়ে ওঠে। ৭ মে ভোরে ভারতীয় বিমানবাহিনীর আক্রমণ শুরু হয়, যার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান দ্রুত প্রতিরক্ষা গঠন করে এবং কয়েকটি ভারতীয় রাফাল যুদ্ধবিমানসহ অন্যান্য যুদ্ধবিমান ধ্বংস করে। উভয় পক্ষের আক্রমণ-প্রতিরোধের ধারাবাহিকতায় উত্তেজনা শীর্ষে পৌঁছায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর দুই দেশ অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
এই সংঘর্ষে পাকিস্তান তার নিজস্ব উৎপাদিত অস্ত্রের কার্যকারিতা প্রদর্শন করে, যা পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানির নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। দ্য ডন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তান জেএফ-১৭ থান্ডার মাল্টি‑রোল যুদ্ধবিমান, আল‑খালিদ যুদ্ধট্যাংক এবং ফাতাহ সিরিজের গাইডেড মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম (জি‑এমএলআরএস) ব্যবহার করে। বিশেষ করে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানকে পাকিস্তানি পক্ষের দাবি অনুসারে, ভারতের পাঞ্জাবের আদমপুরে স্থাপিত এস‑৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ধ্বংস করতে সক্ষম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাকিস্তানের এই সাফল্য কেবলমাত্র চীনা সরবরাহিত সামরিক সরঞ্জামের কার্যকারিতা নয়, বরং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্রের সক্ষমতাও তুলে ধরেছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, জেএফ-১৭ এবং আল‑খালিদের যুদ্ধক্ষেত্রের পারফরম্যান্স পাকিস্তানের রক্ষা শিল্পকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ক্রেতাদের নজরে এনে দিয়েছে। একই সঙ্গে, ফাতাহ সিরিজের রকেট সিস্টেমের ব্যবহার পাকিস্তানের রকেট প্রযুক্তির আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করেছে।
সংঘর্ষের পর থেকে একের পর এক দেশ পাকিস্তানি অস্ত্রের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিশেষত, দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু ক্ষমতাসম্পন্ন দেশ হিসেবে পাকিস্তানের রক্ষা শিল্পের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই প্রবণতা পাকিস্তানের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফের মতে, সামরিক শিল্পে অর্জিত এই সাফল্য দেশের আর্থিক ভবিষ্যৎকে রূপান্তরিত করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে প্রমাণিত আমাদের বিমান ও ট্যাংক এখন আন্তর্জাতিক অর্ডার পাচ্ছে, যা শীঘ্রই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে অতিরিক্ত তহবিলের প্রয়োজন কমিয়ে দিতে পারে।” তার এই মন্তব্য দেশীয় শিল্পের রপ্তানি সম্ভাবনা ও আর্থিক স্বাবলম্বিতা সম্পর্কে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, এই সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গৃহীত যুদ্ধবিরতি, দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোর স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হয়েছে। তবে, বিশ্লেষকরা সতর্ক করেন, দীর্ঘমেয়াদে উভয় দেশের পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে পুনরায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে, বিশেষত যদি অস্ত্র রফতানি ও প্রযুক্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়।
পাকিস্তানের রক্ষা শিল্পের সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে, আন্তর্জাতিক রপ্তানি চুক্তি ও সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। পরবর্তী মাসগুলোতে, পাকিস্তান ও চীন, রাশিয়া এবং তুরস্কের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা আলোচনার সূচনা হতে পারে, যা অস্ত্রের সরবরাহ চেইনকে আরও বৈচিত্র্যময় করবে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক রক্ষা মেলা ও এক্সপোতে পাকিস্তানের পণ্য প্রদর্শনের সুযোগও বাড়বে, যা নতুন ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করবে।
অবশেষে, দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিবেশে এই ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ঐতিহাসিক উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং পাকিস্তানের রক্ষা শিল্পের রপ্তানি সম্ভাবনা একত্রে ভবিষ্যৎ কৌশলগত গঠনকে প্রভাবিত করবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে, এই গতিবিধি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অস্ত্র বাণিজ্যের দিক থেকে নতুন চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ উভয়ই উপস্থাপন করে।



