ঢাকার বিশেষ জজ‑৪ আদালতে আজ (৮ জানুয়ারি) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতির মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানার দুই মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক অন্তর্ভুক্ত, যাদের বিরুদ্ধে সরকারী প্লটের অনিয়মিত বরাদ্দের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে, সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর অভিযুক্তদের নিজেদের নির্দোষতা প্রমাণের সুযোগ দেওয়া হয়; আজকের শুনানিতে এ বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পূর্বে গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) একই আদালতে বিচারক রবিউল আলম মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্তি ঘোষণা করেন। মোট ৩১ জন সাক্ষী, যার মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া অন্তর্ভুক্ত, জবানবন্দি দিয়েছেন।
সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ পর্যায়ে, অভিযুক্ত খুরশীদ আলমের আইনজীবী শাহিন উর রহমান তদন্তকারী কর্মকর্তার ওপর জেরা চালান। জেরা শেষ হওয়ার পর আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের সমাপ্তি ঘোষণা করে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করে।
মামলার নথিপত্রে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে পূর্বাচলে ১০টি সরকারি প্লটের অনিয়মিত বরাদ্দের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। তদন্তের পর ১০ মার্চ আদালতে ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারী সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে নিজের ও পারিবারিক সদস্যদের নামে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তায় ছয়টি প্লট বরাদ্দ করেন। নীতিমালার লঙ্ঘন করে এই বরাদ্দ করা হয়, যদিও বিধি অনুসারে তারা এসব প্লটের জন্য যোগ্য ছিলেন না।
অভিযুক্তদের তালিকায় শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াচি উদ্দিন এবং রাজউক কর্তৃপক্ষের নাম অন্তর্ভুক্ত। মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জারি করা হয়েছে।
আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে অভিযুক্তরা নিজেদের নির্দোষতা প্রমাণের জন্য বক্তব্য রাখবে। আদালত এই পর্যায়ের পর পরবর্তী প্রক্রিয়া নির্ধারণ করবে, যার মধ্যে রায়ের তারিখ ও শাস্তি নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই মামলাটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ এতে প্রধান রাজনৈতিক নেতার ওপর দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। রায়ের ফলাফল ভবিষ্যতে সরকারী সম্পদ বরাদ্দের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে আলোচনার দিক নির্ধারণ করবে।
সামগ্রিকভাবে, আজকের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে পরিণত হবে। আদালতের সিদ্ধান্তের পরবর্তী পর্যায়ে শাস্তি নির্ধারণ ও মামলার চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটবে।



