ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৭ নং ওয়ার্ডের উপ-সভাপতি, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক অন্বর উল্লাহ (বয়স ৬৫) রাত ২ টার কাছাকাছি নিজের বাড়িতে নিহত হন। ঘটনাস্থল ছিল পশ্চিম রাজাবাজারের একটি প্রথম তলা ফ্ল্যাট, যেখানে তিনি স্ত্রীসহ বসবাস করতেন।
অন্বর উল্লাহের পরিবার জানায়, দুইজন মুখোশধারী অপরাধী গ্রিল কেটে বাড়ির দরজা ভেঙে প্রবেশ করে। তারা শিকারকে হাত বাঁধে, গলা স্কার্ফে ঘেঁষে গ্যাগ করে এবং কপালে ও ডান হাঁটুর গোড়ায় আঘাতের চিহ্ন রেখে চলে যায়।
শিকারের জামাতা শামসুদ্দোহা জানান, রাত ৫ টার দিকে শাশুড়ি ফোনে ঘটনাটি জানিয়ে দেন, ফলে তিনি তৎক্ষণাৎ বাড়িতে পৌঁছে শিকারের অচেতন অবস্থা লক্ষ্য করেন। শামসুদ্দোহা উল্লেখ করেন, শিকারের গলায় স্কার্ফ বেঁধে রাখা ছিল এবং তার হাত ও পা বাঁধা ছিল।
শিকারের অবস্থা জরুরি সেবার মাধ্যমে নিকটস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়। চিকিৎসকগণ শিকারের শ্বাসপ্রশ্বাস স্থবির হয়ে যাওয়ার পরই তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থল থেকে কিছু মূল্যবান সামগ্রী এবং সোনার গহনা চুরি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। শিকারের পরিবার উল্লেখ করে, তিনি কুমিল্লা থেকে আসা একজন শিক্ষক এবং হোমিওপ্যাথিক চর্চা করতেন।
অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে, শের-এ-বাংলা নগর পুলিশ স্টেশনের উপ-ইনস্পেক্টর রুবায়েত রাকিব ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট প্রস্তুত করেন। রিপোর্টে শিকারের কপালে ও ডান হাঁটুর গোড়ায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে এবং অপরাধীরা শিকারের হাত বাঁধে, মুখ গ্যাগ করে এবং শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে সিআইডি ক্রাইম সীন ইউনিটের সদস্য ও পুলিশ দল现场ে উপস্থিত হয়ে প্রমাণ সংগ্রহ করেন। ক্যামেরা রেকর্ডে দেখা যায়, দুইজন অপরিচিত ব্যক্তি বাড়িতে প্রবেশের সময় রেকর্ড হয়েছে, যা তদন্তকারীদের সন্দেহ বাড়িয়েছে যে চোরাচালানই মূল উদ্দেশ্য ছিল।
তেজগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার আক্কাস আলি জানান, সিসিটিভি ফুটেজে অপরাধীদের প্রবেশের দৃশ্য স্পষ্ট, এবং এখনো অপরাধীদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশ দল বর্তমানে চোরাচালান সংক্রান্ত সূত্র অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
শিকারের দেহ শাহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মরগে পাঠানো হয়েছে, যেখানে পোস্ট-মর্টেম পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষার ফলাফল শিকারের মৃত্যুর সঠিক কারণ ও নির্দিষ্ট আঘাতের বিশদ প্রকাশ করবে।
অধিক তদন্তের জন্য পুলিশ ও সিআইডি উভয়ই দল গঠন করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন গ্রেফতার করা যায়নি, তবে চোরাচালান motive নিয়ে তদন্তের দিক নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আদালতে মামলার প্রক্রিয়া ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য জানানো হবে।



