দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সামরিক সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বাংলাদেশে সামরিক সংযোগের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত ও বাংলাদেশের সেনা, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর মধ্যে বহু যোগাযোগের পথ সক্রিয় রয়েছে, যা কোনো ভুল বোঝাবুঝি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশের প্রতি বিশেষ মনোযোগের কথা বলেন। বর্তমান সরকার কী ধরনের—স্থায়ী না অন্তর্বর্তী—এটি নির্ধারণের পরই ভারতের প্রতিক্রিয়া নির্ধারিত হবে। তিনি বলেন, যদি interim সরকার থাকে, তবে তার নীতিমালা ও পদক্ষেপগুলোকে পাঁচ বছর বা পাঁচ মাসের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করতে হবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদী কৌশল নির্ধারণ করা যায়।
দ্বিবেদী জোর দিয়ে বলেন যে, এই মুহূর্তে তিনটি সশস্ত্র বাহিনীর (সেনা, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী) মধ্যে যোগাযোগের সব চ্যানেল সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত রয়েছে। তিনি নিজে এবং তার সহকর্মীরা নিয়মিতভাবে বাংলাদেশীয় সেনাপ্রধানের সঙ্গে সংলাপ বজায় রাখছেন। এছাড়া, নৌবাহিনীর প্রধান ও বিমানবাহিনীর প্রধানের সাথেও সমন্বয় করা হচ্ছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে একটি প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে মাঠ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছে। এই দলটি বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে তথ্য বিনিময় এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করেছে। দ্বিবেদী উল্লেখ করেন, এই ধরনের সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে কোনো ধরনের যোগাযোগের বিচ্ছিন্নতা বা ভুল ব্যাখ্যা রোধ করা সম্ভব হচ্ছে।
সামরিক সংযোগের পাশাপাশি, তিনি নিশ্চিত করেন যে, বর্তমান সময়ে নেওয়া সব পদক্ষেপ ভারতের প্রতি কোনো হুমকি হিসেবে নয়, বরং পারস্পরিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সক্ষমতা উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা ভারতসহ অন্যান্য দেশগুলোও অনুসরণ করছে।
অবশেষে, দ্বিবেদী জানান যে, ভারতীয় সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় হলে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান কৌশলগত পরিবেশে তথ্যের স্বচ্ছতা ও সমন্বয় বজায় রাখা উভয় দেশের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।
এই বিবৃতি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সমন্বয়ের নতুন দিক নির্দেশ করে। বিশেষ করে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের পুনর্গঠনকে বিবেচনা করে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর এই সক্রিয় যোগাযোগ নীতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়।
সামগ্রিকভাবে, জেনারেল দ্বিবেদীর মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ই সামরিক স্তরে পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তোলার জন্য সব ধরনের যোগাযোগের সুযোগ ব্যবহার করছে এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।



