যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ার জেরোম পাউয়েলের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক তদন্তের সূচনা হওয়ার পর, বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা একত্রে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে ফেডের স্বায়ত্তশাসনকে সমর্থন জানিয়েছেন। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে পাউয়েল তার দায়িত্ব পালনকালে সততা বজায় রেখেছেন, তার ম্যান্ডেটের প্রতি নিবেদিত ছিলেন এবং সর্বদা জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
এই যৌথ ঘোষণায় যুক্তরাজ্যের ব্যাংক অব ইংল্যান্ড, ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক এবং কানাডার ব্যাংকসহ মোট এগারোজন শীর্ষ ব্যাংকিং কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেছেন। তারা স্বতন্ত্রভাবে সুদের হার নির্ধারণের গুরুত্বকে পুনর্ব্যক্ত করে, আর্থিক নীতি গঠনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ঝুঁকি দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (DOJ) বর্তমানে পাউয়েলের ওপর তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্তের বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিশদ তথ্য প্রকাশ না করা সত্ত্বেও, এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক আর্থিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগের সঞ্চার করেছে। তদুপরি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই তদন্ত সম্পর্কে জানার দাবি করে বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না”।
পাউয়েলের ওপর তদন্তের পূর্বে, ট্রাম্পের সরকারী নীতি ও মন্তব্যের ধারাবাহিক সমালোচনা তাকে লক্ষ্যবস্তু করে চলেছে। ট্রাম্পের সমালোচনায় শুধু সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নয়, ব্যক্তিগত আক্রমণও অন্তর্ভুক্ত, যেখানে তিনি পাউয়েলকে “বড় হারা” এবং “মূর্খ” বলে অভিহিত করেছেন। এই ধরনের রেটরিক্সের ফলে ফেডের স্বায়ত্তশাসন ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং নীতির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান আন্তর্জাতিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তারা জোর দিয়ে বলছে যে, কোনো রাজনৈতিক শক্তি যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে, তা দীর্ঘমেয়াদে বাজারের আস্থা ও মুদ্রা নীতির কার্যকারিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, পাউয়েলকে তার সহকর্মীরা সম্মানজনকভাবে উচ্চ মর্যাদায় বিবেচনা করেন এবং তার সঙ্গে কাজ করা সবাই তাকে একটি সম্মানিত সহকর্মী হিসেবে দেখে। এই সম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক আর্থিক নেটওয়ার্কে পাউয়েলের প্রভাবকে আরও দৃঢ় করে তুলেছে।
অধিকন্তু, এই যৌথ বিবৃতি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক নীতি ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারে সম্ভাব্য পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিচ্ছে। যদি তদন্তের ফলাফল পাউয়েলের বিরুদ্ধে প্রমাণ সরবরাহ করে, তবে তা ফেডের নীতি নির্ধারণে নতুন চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করতে পারে এবং বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সমর্থনের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশে এই তদন্তের প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। ট্রাম্পের সমালোচনা ও ব্যক্তিগত আক্রমণকে যদি আদালতে প্রমাণিত করা যায়, তবে তা প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী আলোচনায় আর্থিক নীতি ও স্বায়ত্তশাসনের বিষয়কে কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে তুলে ধরতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ার পাউয়েলের ওপর চলমান অপরাধমূলক তদন্তের পর, বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা তার স্বায়ত্তশাসনকে সমর্থন জানিয়ে একত্রিত হয়েছেন। তারা আর্থিক নীতি গঠনে স্বতন্ত্রতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন এবং পাউয়েলের নেতৃত্বকে সম্মানজনক ও অখণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান আন্তর্জাতিক আর্থিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা আশা করছেন।



