20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিগণফোরাম সভাপতি সুব্রত চৌধুরী interim সরকারকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রতারণা অভিযোগ করেন

গণফোরাম সভাপতি সুব্রত চৌধুরী interim সরকারকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রতারণা অভিযোগ করেন

গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সিপিডি-র আয়োজনে ‘নাগরিক ইশতেহার ২০২৬: জাতীয় নির্বাচন ও রূপান্তরের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে interim সরকারকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রতারণা করার অভিযোগে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার জাতীয় ঐক্যের দাবি করে থাকলেও, তার নীতিগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থতা দেখা দিচ্ছে।

সংলাপের সময় চৌধুরী উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি সংস্কার কমিশন গঠন করা সত্ত্বেও, গণভোটের প্রক্রিয়া মাত্র চারটি দফা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকায় সেসবের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি বলেন, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে গঠিত কমিশনসহ অন্যান্য সংস্কার উদ্যোগ এখন অন্ধকারে বা ডিপ ফ্রিজে আটকে আছে।

গণফোরামের সভাপতি আরও জানান, গণমাধ্যম কমিশন ও টিআইবির প্রধানরাও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি যুক্তি দেন, একক নির্বাচনের মাধ্যমে পুরো রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়; অতীতে ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা দলগুলো জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তাই কেবল একটি দলকে ক্ষমতায় বসিয়ে সমস্যার সমাধান করা যায় না।

চৌধুরী বলেন, ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হলে জনসম্পৃক্ততার ভিত্তিতে সমন্বিত পদ্ধতি গ্রহণ করা দরকার। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর আত্মসমালোচনার আহ্বান জানান, “আমরা প্রায়ই নীতিহীন রাজনীতি চালাই। দলের ভেতরে গণতন্ত্রের অভাব থাকলে, দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। প্রথমে নিজেদের সংস্কার করা জরুরি।”

এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, সংলাপে উপস্থিত অন্যান্য বিশ্লেষক ও নীতিনির্ধারকরা সরকারকে সংস্কার প্রক্রিয়ায় গতি না দেওয়ার জন্য সমালোচনা করেন। তবে, সরকারী পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি।

গণফোরামের এই প্রকাশনা রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছেন, যদি সরকার এই সমালোচনাকে উপেক্ষা করে, তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার চাহিদা বাড়তে পারে, যা পরবর্তী নির্বাচনী চক্রে প্রভাব ফেলতে পারে।

অধিকন্তু, চৌধুরীর বক্তব্যের ফলে মিডিয়া ও টিআইবি উভয়ই তাদের নিজস্ব মূল্যায়ন প্রকাশের জন্য প্রস্তুত হতে পারে, যা সরকারী নীতির পুনর্বিবেচনা ও সংশোধনের সম্ভাবনা বাড়াবে। ভবিষ্যতে, গণফোরামের এই ধরনের সমালোচনা ও আহ্বান রাজনৈতিক দলগুলোর নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এবং দেশের সামগ্রিক শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জনসেবার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

গণফোরাম, যা দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে, তার এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আলোচনার নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে। সংলাপের শেষে চৌধুরী উল্লেখ করেন, “সামগ্রিকভাবে জনসম্পৃক্ততা ছাড়া কোনো সংস্কার টেকসই হবে না; তাই এখনই সময় রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে গণতন্ত্র চর্চা করতে হবে।”

এই বিবৃতি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে সরকার, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বিত সংলাপের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments