মুম্বাইয়ের চাঁদিভালিতে অবস্থিত বালাজি আইটি পার্কের একটি বাণিজ্যিক সম্পত্তি ৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জিতেন্দ্র কাপুর এবং তার পুত্র তুষার কাপুরের মালিকানায় থেকে টোকিও ভিত্তিক এনটিটি গ্লোবাল ডেটা সেন্টারসকে ৫৫৯.২৪ কোটি রুপিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই লেনদেনটি ভারতের ডিজিটাল অবকাঠামোতে বিদেশি বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
সম্পত্তিটি বালাজি আইটি পার্কের চাঁদিভালির উপশহরে অবস্থিত, যেখানে একটি গ্রাউন্ড‑প্লাস‑১০ তলা ডি.সি‑১০ নামের ভবন এবং একই ক্যাম্পাসে সংলগ্ন চার তলা ডিজেল জেনারেটর কমপ্লেক্স রয়েছে। ডি.সি‑১০ ভবনে একটি ডেটা সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে, যা উচ্চ ক্ষমতার ক্লাউড ও ডেটা সেবা প্রদান করতে সক্ষম।
ক্রেতা এনটিটি গ্লোবাল ডেটা সেন্টারস, টোকিওতে সদর দপ্তরযুক্ত এনটিটি গ্রুপের একটি শাখা, যা বিশ্বব্যাপী ডেটা সেন্টার ও ক্লাউড অবকাঠামো সেবা প্রদানকারী শীর্ষ সংস্থা হিসেবে পরিচিত। ভারতের দ্রুত বাড়তে থাকা ক্লাউড কম্পিউটিং, ডেটা ম্যানেজমেন্ট এবং কানেক্টিভিটি চাহিদা পূরণের জন্য এনটিটি দেশের বাজারে সক্রিয়ভাবে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে।
রেজিস্ট্রেশন নথি অনুযায়ী বিক্রিত এলাকা প্রায় ৩০,১৯৫ বর্গমিটার, অর্থাৎ প্রায় ৩,২৫,০০০ বর্গফুটের সমান। ২০২৪ সালের সরকারী রেজলিউশনের অধীনে এই লেনদেনে প্রচলিত স্ট্যাম্প ডিউটি আরোপিত হয়নি; পরিবর্তে মাত্র ৫.৫৯ লক্ষ রুপির মেট্রো সেস প্রদান করা হয়েছে।
এটি কাপুর পরিবার ও এনটিটি গ্লোবাল ডেটা সেন্টারসের মধ্যে প্রথম নয়। মে ২০২৫-এ কাপুর পরিবারের দুটি সংস্থা—প্যানথিয়ন বিল্ডকন প্রাইভেট লিমিটেড এবং তুষার ইনফ্রা ডেভেলপার্স প্রাইভেট লিমিটেড—আন্দেরি অঞ্চলের আরেকটি বড় জমি, যা একই বালাজি আইটি পার্কের অংশ, এনটিটিকে ৮৫৫ কোটি রুপিতে বিক্রি করেছিল। সেই লেনদেনটি মুম্বাইয়ের সর্বোচ্চ মূল্যের রিয়েল এস্টেট ডিলগুলোর মধ্যে গণ্য হয়।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, এই ধরনের উচ্চমূল্যের ডেটা সেন্টার সম্পত্তি বিক্রয় দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোতে বিদেশি মূলধনের প্রবাহকে ত্বরান্বিত করছে। ডেটা সেন্টার ও ক্লাউড সেবার চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রিয়েল এস্টেট বাজারে বিশেষায়িত বাণিজ্যিক সম্পত্তির মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাশিত। এছাড়া, এনটিটির মতো আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ের প্রবেশ স্থানীয় নির্মাতা ও ডেভেলপারদের জন্য নতুন অংশীদারিত্বের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
তবে কিছু ঝুঁকিও উপেক্ষা করা যায় না। রিয়েল এস্টেটের মূল্যবৃদ্ধি যদি অতিরিক্ত speculative activity তে রূপ নেয়, তবে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি, ডেটা সেন্টার পরিচালনার জন্য উচ্চ শক্তি ও নিরাপত্তা মান বজায় রাখতে ধারাবাহিক বিনিয়োগের প্রয়োজন, যা নিয়ন্ত্রক নীতি ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।
সংক্ষেপে, জিতেন্দ্র ও তুষার কাপুরের মুম্বাই সম্পত্তি এনটিটি গ্লোবাল ডেটা সেন্টারসকে বিক্রি করা একটি উল্লেখযোগ্য রিয়েল এস্টেট লেনদেন, যা ভারতের ডিজিটাল অবকাঠামোর গতি ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়ে তুলেছে। ভবিষ্যতে ডেটা সেন্টার ও ক্লাউড সেবার চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের লেনদেনের সংখ্যা বাড়তে পারে, তবে বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক ও পরিবেশগত দিক থেকে সঠিক নীতি প্রয়োগ অপরিহার্য।



