অন্তর্বর্তী সরকার আর্থিক সংকট ও শীঘ্রই অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির কারণে নতুন পে স্কেল ঘোষণার পরিকল্পনা থেকে সরে গেছে। ফলে, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীরা বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবে।
পে স্কেল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের পরেও সরকার পে স্কেল ঘোষণার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে। তবে পে কমিশনের কাজ বন্ধ করা হয়নি; কমিশনকে পূর্ণাঙ্গ বেতন কাঠামো প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তার চূড়ান্ত প্রতিবেদন নির্বাচনের পর নতুন সরকারকে হস্তান্তর করা হবে।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের আগে সময়ের সীমাবদ্ধতা এবং ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির কারণে নতুন পে স্কেল ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই, নতুন কাঠামো বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত মহার্ঘ ভাতা বর্তমান নিয়মে প্রদান অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনের আগে পে স্কেল ঘোষণার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এই বিষয়টি নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়াই যুক্তিযুক্ত। অন্যদিকে, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেছেন যে পে কমিশনকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত আলোচনা গত বছরের ১ জুলাই থেকে শুরু হয়। বাজেট ঘোষণার সময় প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১৫ শতাংশ এবং দশম থেকে বিশ গ্রেডের কর্মীদের জন্য ২০ শতাংশ হারে ভাতা প্রদান করার প্রস্তাব করা হয়। তবে পরে সরকার পে স্কেলের দিকে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এখন, নতুন পে স্কেল ঘোষণার আগে পর্যন্ত মহার্ঘ ভাতা বর্তমান নিয়মে চালু থাকবে।
বিশেষ করে, প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১৫ শতাংশ এবং দশম থেকে বিশ গ্রেডের কর্মীরা ২০ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা পাবেন। এই ভাতা অষ্টম বেতন কাঠামো অনুযায়ী প্রদান করা হবে, যা বর্তমান বেতন ও ভাতা কাঠামোর অংশ।
পে কমিশনের কাজ অব্যাহত থাকায় ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ বেতন কাঠামো প্রস্তুত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নির্বাচনের পর নতুন সরকারকে এই প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হবে, যা নতুন পে স্কেল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে সরকারি কর্মচারীরা স্বল্পমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারবেন, যদিও দীর্ঘমেয়াদে বেতন কাঠামোর পরিবর্তন এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের ফলাফল নতুন সরকারের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে বেতন ও ভাতা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে।
সারসংক্ষেপে, নতুন পে স্কেল ঘোষণার দেরি এবং মহার্ঘ ভাতার ধারাবাহিকতা সরকারী কর্মচারীদের বর্তমান আর্থিক অবস্থাকে প্রভাবিত করবে, এবং পে কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন নির্বাচনের পর নতুন সরকারের হাতে যাবে।



