১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে ২৩০ কোটি ৭২ লাখ টাকার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ৬০,০০০ চালকের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ৪০,০০০ নবীন চালককে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। বাকি ২০,০০০ অভিজ্ঞ চালকের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ চালু করা হবে, যাতে তারা উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন পেশাদার হিসেবে কাজ করতে পারে।
অধিকাংশ বর্তমান চালক হালকা যানবাহন চালান, যার বিদেশি চাহিদা সীমিত। তাই পরিকল্পনায় ক্রেন, এক্সকাভেটর ইত্যাদি ভারী যন্ত্রপাতি ও যানবাহন চালানোর বিশেষ কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ বেতনের সুযোগ তৈরি করবে।
এই প্রকল্পের অর্থায়ন বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ তহবিলের মাধ্যমে হবে। এটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ‘বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা’ প্রকল্পের আওতায় গৃহীত হয়েছে।
বিএরটিএ (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি) ‘নন-কনসালটেন্সি সার্ভিস ফর ডেলিভারি অব কমার্শিয়াল ড্রাইভার ট্রেনিং’ প্যাকেজের অধীনে ভৌত সেবা ক্রয় করবে। প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া বিএরটিএ এবং বিএমইটি (বাংলাদেশ মেরিটাইম এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ট্রাস্ট) যৌথভাবে তদারকি করবে।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেছেন, এই পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদী কর্মসংস্থান কৌশল এবং আসন্ন নির্বাচনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, দক্ষ চালক তৈরি হলে দেশের বেকারত্বের চাপ কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে।
প্রশিক্ষণ সম্পন্ন চালকদের জন্য বিদেশি নিয়োগকারীরা উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়বে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি পাবে।
দেশীয় পর্যায়ে পেশাদার চালকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে সড়ক নিরাপত্তা উন্নত হবে। দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে বলে বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী এবং লাইসেন্সিং সেবার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এই সেক্টরগুলোতে নতুন ব্যবসা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে।
প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে অনুরূপ স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালু করার ভিত্তি তৈরি হবে। তবে প্রশিক্ষণের গুণমান, প্রশিক্ষক দক্ষতা এবং বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে যাবে।
সারসংক্ষেপে, ৬০,০০০ চালকের জন্য পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ প্রকল্প কর্মসংস্থান, রেমিট্যান্স এবং সড়ক নিরাপত্তা তিনটি মূল দিকেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকার, বিশ্বব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা সফলতা নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হবে।



