ঢাকা, ১৩ জানুয়ারি – উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২৪ দিন আগে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ড ও ধ্বংসাত্মক হামলার পরও অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মঙ্গলবার সংগঠনটি একই স্থানে একটি বিশেষ প্রদর্শনী ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে, যেখানে পুড়িয়ে ফেলা নথি, বাদ্যযন্ত্র, নাটকের পোশাক ও প্রপসসহ ৫৭ বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধ্বংসাবশেষ জনসামনে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রদর্শনীতে দেখা যায়, আগুনে জ্বলে পুড়িয়ে ফেলা সামগ্রীগুলোকে রক্ষা করার জন্য কোনো সরকারি সহায়তা বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রদান করা হয়নি। সংগঠনের এক অংশের সভাপতি হাবিবুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার উল্লেখ করেন, হামলার পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেননি, ন্যূনতম সমবেদনা প্রকাশও করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে জামসেদ আনোয়ার লিখিত বক্তব্য পড়ে জানান, সংস্কৃতি উপদেষ্টার ভূমিকা এই সময়ে সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত রয়ে গিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, উদীচী সংগঠনটি দেশের বৃহত্তম, ঐতিহ্যবাহী ও গণভিত্তিক সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রগতিশীল আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। আজ সেই কেন্দ্রবিন্দু ধ্বংসের শিকারে পরিণত হয়েছে।
আনোয়ার আরও বলেন, পূর্বে ছায়ানট, প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারসহ প্রধান মিডিয়া সংস্থার ওপর ধারাবাহিক হামলা ঘটেছে, আর উদীচীর কার্যালয়ে আক্রমণ এই ধারার অব্যাহত অংশ। তিনি যুক্তি দেন, এই সব ঘটনার পেছনে সুপরিকল্পিত, উগ্র সাম্প্রদায়িক ও ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
হামলার দিন, উদীচীর কর্মীরা নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, তবে পুলিশ থেকে কোনো সহায়তা পাননি। জামসেদ আনোয়ার জানান, তারা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কার্যালয়ে অবস্থান করে ছিলেন এবং বিকেল চারটার দিকে ছায়ানট ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদে অংশগ্রহণের পর ফিরে আসার পথে উদীচীর ওপর হামলার খবর পান।
অন্তর্বর্তী সরকার এই বছর সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর জন্য নির্ধারিত বার্ষিক অনুদান থেকে উদীচীকে বাদ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, ফলে সংগঠনটি আর্থিক সংকটে পড়েছে।
উদীচীর প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনগত পদক্ষেপের জন্য পুলিশকে অভিযোগ দায়েরের আহ্বান জানানো হয়েছে, তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট দাখিল করা হয়নি। তারা দাবি করেন, সরকারী দায়িত্বশীলদের দ্রুত তদন্ত শুরু করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সংগঠনটি উল্লেখ করে, উদীচীর কার্যালয়ের ধ্বংসাবশেষের মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ক্ষতি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সমাজের সকল স্তর থেকে সমর্থন পেয়ে এই ধ্বংসের পুনর্গঠন ও ভবিষ্যৎ সংস্কৃতি নীতির উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, নিরাপত্তা সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে অবিলম্বে তদন্ত শুরু করে, সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের আইনি দায়িত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের স্বতন্ত্রতা ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সরকারী নীতি ও সহায়তা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন, তা না হলে ভবিষ্যতে অনুরূপ আক্রমণ পুনরাবৃত্তি হতে পারে।



