জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) আজ কাস্টমস শুল্কে ব্যাপক হ্রাসের সিদ্ধান্ত জানায়, যার লক্ষ্য মোবাইল ফোনের মূল্যে স্বস্তি এনে গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো। শুল্ক হ্রাসের ফলে উচ্চমূল্যের স্মার্টফোনের বাজারে সরবরাহ ও চাহিদা উভয়ই প্রভাবিত হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে চায়।
বাহ্যিক বাজার থেকে আমদানি করা সম্পূর্ণ মোবাইল ফোনের শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে, যা ১৫ শতাংশ পয়েন্টের উল্লেখযোগ্য হ্রাস। এই পরিবর্তনটি সরকারী নোটিফিকেশন অনুযায়ী কার্যকর হয়েছে এবং শুল্ক কাঠামোর পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
শুল্ক হ্রাসের ফলে মোট করের বোঝা ৬১.৮০ শতাংশ থেকে কমে ৪৩.৪৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এই হ্রাসটি কাস্টমস শুল্ক, ভ্যাট এবং অন্যান্য করের সমন্বয়ে গঠিত, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের হাতে পৌঁছায়।
বিশেষ করে ৩০,০০০ টাকার উপরে মূল্যের আমদানি করা ফোনের দাম প্রায় ৫,৫০০ টাকা কমে যাবে বলে সরকারী অনুমান প্রকাশিত হয়েছে। এই মূল্যসাম্যতা মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত গ্রাহকদের জন্য স্মার্টফোন কেনার বাধা হ্রাস করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একই সময়ে, দেশীয় সমাবেশকারীদের জন্য উপকরণ ও যন্ত্রাংশের শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এই হ্রাসটি স্থানীয় উৎপাদনকারীদের কাঁচামাল ক্রয় খরচকে কমিয়ে দেবে, ফলে সমাবেশকৃত ফোনের দামেও সাশ্রয় হবে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, একই দামের সেগমেন্টে দেশীয় সমাবেশিত ফোনের দাম প্রায় ১,৫০০ টাকা কমে যাবে। এই সাশ্রয়টি স্থানীয় ব্র্যান্ডের প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে বাজারে নতুন গতিবিধি আনতে পারে।
শুল্ক কাঠামোর এই পরিবর্তন থেকে সরকার আশা করে যে বিদেশি ও পুনর্বিক্রয়কৃত ফোনের প্রবাহ কমবে, একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ ও স্থানীয় উৎপাদন বাড়বে। নতুন নীতি শিল্পে নতুন ক্যাপিটাল আকর্ষণ করে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, শুল্ক হ্রাসের ফলে আমদানিকারী ও স্থানীয় সমাবেশকারী উভয়েরই লাভ হবে, তবে দাম কমে যাওয়ায় বিক্রয় পরিমাণ বাড়তে পারে। ফলে বিক্রেতা ও রিটেইলারদের মুনাফা মার্জিনে সাময়িক চাপ আসতে পারে, তবে বিক্রয় ভলিউম বৃদ্ধি তা পূরণ করবে।
ভোক্তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে, শুল্ক হ্রাসের ফলে উচ্চমানের স্মার্টফোনের দাম কমে আরও বেশি মানুষ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীদের জন্য এই সাশ্রয় অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
অন্যদিকে, শুল্ক হ্রাসের ফলে সরকারের আয় কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। করের হ্রাসের ফলে বাজেটের অন্যান্য খাতে প্রভাব পড়তে পারে, তাই সরকারকে বিকল্প রাজস্ব উৎস বা ব্যয় সমন্বয় বিবেচনা করতে হবে।
সামগ্রিকভাবে, NBR-এর শুল্ক হ্রাসের পদক্ষেপ মোবাইল ফোন বাজারে মূল্য স্থিতিশীলতা ও উৎপাদন বৃদ্ধি উভয়ই লক্ষ্য করে। শুল্ক কাঠামোর এই পরিবর্তনটি যদি প্রত্যাশিতভাবে কাজ করে, তবে আগামী কয়েক বছরে দেশীয় মোবাইল শিল্পের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং ভোক্তাদের জন্য আরও সাশ্রয়ী পণ্য সরবরাহ হবে।



