20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধচাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে টহল বাড়িয়ে ১৫ দিনে ১.৩৩ কোটি টাকার চোরাই জব্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে টহল বাড়িয়ে ১৫ দিনে ১.৩৩ কোটি টাকার চোরাই জব্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে অবৈধ পারাপার ও সশস্ত্র চোরাকারবারি রোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) টহল ও নজরদারি তীব্র করেছে। অতিরিক্ত টহল চালু হওয়ার পর গত পনেরো দিনে গরু, মহিষ, আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক এবং বিভিন্ন চোরাই পণ্যসহ মোট ১ কোটি ৩৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭১০ টাকার মালামাল জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে একজন চোরাকারবারিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্র অনুযায়ী, সীমান্তে ঘটমান আহত, নিহত ও গ্রেপ্তারীর সংখ্যা বাড়ার ফলে টহল বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে গরু পাচার, মদ ও মাদকের অবৈধ সরবরাহের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। এ কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) অতিরিক্ত টহল ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।

গত ১৫ দিনে জব্দকৃত সামগ্রীর মধ্যে ২৩ ডিসেম্বর দুইটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, নগদ এক লাখ টাকা এবং একটি মোটরসাইকেল অন্তর্ভুক্ত। এই অপারেশনে একটি চোরাকারবারিকেও আটক করা হয়, যাকে পরবর্তীতে পুলিশ হস্তান্তর করে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য আদালতে পাঠানো হবে।

বিভিন্ন তারিখে চালু করা পৃথক অভিযানে গরু ও মহিষের পাশাপাশি ভারতীয় মদ, নেশাজাতীয় চোকোপ্লাস সিরাপ, ভারতীয় চাদর, নারিকেল তেল, ফেসওয়াশ, সাবান, কসমেটিকস, চিনি এবং একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা জব্দ করা হয়েছে। এসব জব্দকৃত পণ্যের মোট মূল্য উল্লেখযোগ্য, যা সীমান্তে অবৈধ বাণিজ্যের তীব্রতা প্রকাশ করে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, পূর্বের তুলনায় বর্তমানে টহল ও নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্তে কোনো চোরাকারবারি বা অপরাধী অবৈধভাবে পারাপার করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছে।

বিজিবি কর্তৃক জব্দকৃত গরু ও মহিষের বেশিরভাগই গৃহস্থালী চাহিদা বা গবাদি পশু বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে ছিল। তবে এসব প্রাণীর অবৈধ পারাপার দেশের কৃষি ও পশুপালন নীতির বিরোধিতা করে এবং সীমান্তে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায়।

অবৈধ অস্ত্রের ক্ষেত্রে, জব্দকৃত দুইটি পিস্তল বিদেশি উৎপাদনের এবং সেগুলি ব্যবহার করে সশস্ত্র অপরাধের সম্ভাবনা ছিল। সংশ্লিষ্ট গুলির পরিমাণ সীমিত হলেও, সশস্ত্র চোরাকারবারি রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মাদক ও নেশাজাতীয় পণ্যের মধ্যে চোকোপ্লাস সিরাপের পাশাপাশি অজানা ধরণের মাদকদ্রব্যও জব্দ হয়েছে। এই পদার্থগুলো সীমান্ত পারাপারকারী গোষ্ঠীর আর্থিক উৎস হিসেবে কাজ করে, যা নিরাপত্তা গোষ্ঠীর জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।

ইম্পোর্টেড ভারতীয় মদ ও চাদরের জব্দকৃত পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। এসব পণ্য অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করিয়ে বিক্রি করা হলে কর হারানো এবং স্থানীয় উৎপাদনকে ক্ষতি করে।

বিজিবি কর্তৃক জব্দকৃত ইঞ্জিন চালিত নৌকা সীমান্তে জলপথে অবৈধ পণ্য পরিবহনের সম্ভাবনা নির্দেশ করে। এই ধরনের নৌকা ব্যবহার করে দ্রুত ও গোপনীয়ভাবে পণ্য আনা-নেওয়া করা সম্ভব, যা সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

গ্রেফতারকৃত চোরাকারবারি এখন পুলিশ হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অবৈধ পণ্য পাচার, অস্ত্র বহন এবং সশস্ত্র অপরাধের অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া চালু হবে। সংশ্লিষ্ট তদন্ত বিভাগ মামলাটি দ্রুত সমাপ্তি করে আদালতে উপস্থাপন করার পরিকল্পনা করেছে।

সামগ্রিকভাবে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে টহল বাড়িয়ে এবং নজরদারি শক্তিশালী করে বিজিবি অবৈধ পারাপার ও চোরাই পণ্যের ধারা দমন করতে সক্ষম হয়েছে। ভবিষ্যতে একই ধরনের অপারেশন চালিয়ে সীমান্তে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments