19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিরাজনীতিবিদদেরই জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের দায়িত্ব, আমীর খসরু বললেন

রাজনীতিবিদদেরই জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের দায়িত্ব, আমীর খসরু বললেন

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শিরোনামের নাগরিক প্ল্যাটফর্মে উল্লেখ করেন, জনগণের রাজনৈতিক আস্থা হ্রাসের মূল কারণই রাজনীতিবিদদের অদায়িত্বশীলতা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে রাজনৈতিক নেতাদেরই, এবং তা সম্ভব হবে জবাবদিহিতার মাধ্যমে।

বৈশ্বিক ও দেশীয় পর্যায়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের সন্দেহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশেও রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি অবিশ্বাসের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। খসরু এই প্রবণতাকে স্বীকার করে বলেন, “রাজনীতির ওপর জনগণের আস্থা কমে গেছে, তা স্বীকার্য। এই আস্থা ফেরাতে হবে রাজনীতিবিদদেরই।”

মঞ্চে তার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল জবাবদিহিতা। তিনি বলেন, “যারা জবাবদিহিতা ও জন-আকাঙ্ক্ষার বিষয়কে ধারণ করতে পারবেন না, তাদের কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যত থাকবে না।” তার মতে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে সংস্কার স্বয়ংক্রিয়ভাবে এগিয়ে যাবে এবং দেশের উন্নয়নের পথে বাধা দূর হবে।

এই আলোচনায় উপস্থিত অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা, বিশেষত নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা, জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে একমত প্রকাশ করেন। তারা উল্লেখ করেন, সরকারের নীতি ও কর্মের স্বচ্ছতা বাড়াতে আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করা এবং নাগরিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। যদিও তারা সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলকে সমালোচনা করেননি, তবে তাদের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে জবাবদিহিতা না থাকলে গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল হবে।

বিএনপি নেতার কথায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসে—সুশীল সমাজের ভূমিকা। তিনি বলেন, “গণতন্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সুশীল সমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।” এর মাধ্যমে তিনি নাগরিকদের নৈতিক দায়িত্বকে জোর দিয়ে তুলে ধরেছেন, যা রাজনৈতিক সংস্কারের সঙ্গে সমন্বয়পূর্ণ।

অন্যদিকে, শাসনকর্তা দলও জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়েছে। সরকারী কর্মকর্তারা পূর্বে উল্লেখ করেছেন যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও নীতি বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা বাড়াতে আইনি সংস্কার এবং তদারকি কমিটি গঠন করা হবে। যদিও এই মন্তব্যগুলো সরাসরি আমীর খসরুর সঙ্গে সংযুক্ত নয়, তবু বর্তমান রাজনৈতিক আলোচনায় উভয় পক্ষেরই এই বিষয়কে অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরতে দেখা যায়।

রাজনীতিবিদদের জবাবদিহিতার প্রতি অঙ্গীকার না হলে, দেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও নাগরিকের অংশগ্রহণের ইচ্ছা ক্ষীণ হতে পারে। খসরু উল্লেখ করেন, “যদি জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হয়, তবে সংস্কার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটবে না; তা সক্রিয় প্রচেষ্টা ও রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি প্রয়োজন।” এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি রাজনৈতিক নেতাদেরকে আহ্বান জানান, যেন তারা নিজেরাই স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখে।

এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি রাজনৈতিক দলগুলো জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপান্তরিত করতে পারে, তবে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণের হার বাড়তে পারে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার হতে পারে। অন্যদিকে, জবাবদিহিতা না হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নাগরিক অসন্তোষের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।

সারসংক্ষেপে, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বক্তব্য জোর দেয় যে, জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের দায়িত্ব কেবল ভোটার নয়, বরং রাজনীতিবিদদেরই। তিনি জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং সুশীল সমাজের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এই দৃষ্টিভঙ্গি দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, বিশেষত আসন্ন ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রস্তুতিতে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments