ঢাকা‑৯ থেকে স্বাধীনভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া ডা. তাসনিম জারা মঙ্গলবার নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আয়োজিত এক সংলাপে দেশের জবাবদিহি ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান কাঠামোতে জটিলতা সর্বত্র বিদ্যমান এবং প্রত্যেকের জবাবদিহি শেষ পর্যন্ত তার নিয়োগকর্তার ওপর নির্ভরশীল।
সংলাপের সময় জারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের কথা শোনা যায়, তবে তা বাস্তবে রূপ নিতে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা না হলে কোনো সংস্কার টেকসই হবে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জনগণ এখনো পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তে সন্তুষ্ট নয় এবং পরিবর্তনের দাবি স্পষ্ট। এই পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তাকে তার দল ত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লিপ্ত হতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
জারার মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দীর্ঘদিনের জবাবদিহি সমস্যাকে স্বীকার করে থাকেন। তারা উল্লেখ করেন, সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই এই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা পেয়েছে এবং জনমত গঠনেও এটির প্রভাব স্পষ্ট।
বৈধ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে জবাবদিহি ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ অপরিহার্য বলে বিশ্লেষকরা তর্ক করেন। তারা বলেন, যদি সরকার এই দিকটি উপেক্ষা করে তবে জনসাধারণের আস্থা হ্রাস পাবে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে।
তাসনিম জারা স্বীকার করেন, তিনি যে দল থেকে সরে এসেছেন তা তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। স্বাধীন প্রার্থীরূপে তার লক্ষ্য হল, ভোটারদের কাছে সরাসরি তার নীতি ও প্রতিশ্রুতি পৌঁছে দেওয়া।
তিনি উল্লেখ করেন, স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া মানে শুধুমাত্র নিজের অবস্থান নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য একটি নতুন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করা। এভাবে তিনি ভোটারদের কাছে তার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, ruling party এবং বিরোধী দল উভয়ই জবাবদিহি কাঠামোর উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে। তবে বাস্তবায়নের গতি ও কার্যকারিতা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে তাসনিম জারার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ নির্বাচনকে নতুন মাত্রা দেবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তার উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে বিকল্পের চাহিদা বাড়াতে পারে এবং প্রধান দলগুলোর কৌশল পরিবর্তন করতে বাধ্য করতে পারে।
বিশ্লেষকরা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের দিকে তাকিয়ে বলেন, যদি জারার বার্তা ভোটারদের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয়, তবে তিনি ধ্রুবক রাজনৈতিক গঠনে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হতে পারেন। অন্যদিকে, তার প্রভাব নির্ভর করবে নির্বাচনী ফলাফলের উপর এবং তার প্রচারাভিযানের কার্যকারিতার ওপর।
অবশেষে, তাসনিম জারা উল্লেখ করেন, জবাবদিহি কাঠামোর দুর্বলতা শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্যও বাধা সৃষ্টি করে। তিনি সকল রাজনৈতিক শক্তিকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে সংস্কার বাস্তবায়ন এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা যায়।
নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায়, জারার স্বতন্ত্র প্রচারাভিযান এবং তার জবাবদিহি সংক্রান্ত দাবিগুলি দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন দিক যোগ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



