অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার ঢাকা সচিবালয়ের সরকারি ক্রয়‑সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকের শেষে জানিয়েছেন, বেতন কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া মাত্রই সরকার নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করবে। তিনি উল্লেখ করেন, ২১ সদস্যের গঠিত কমিশন বিষয়টি বিশদভাবে বিশ্লেষণ করছে এবং শীঘ্রই সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে।
বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা ২০১৫ সালের পে‑স্কেল অনুসারে বেতন ও ভাতা পাচ্ছেন। ঐ পে‑স্কেল অনুযায়ী বেসিক বেতন, গ্রেড ভাতা, হাউজিং ভাতা এবং অন্যান্য ভাতা নির্ধারিত হয়েছে, যা প্রায় দুই দশক আগে প্রণয়ন করা হয়েছিল। যদিও এই কাঠামো তখনকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল, তবে সময়ের সাথে সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় পনেরো লক্ষের কাছাকাছি, যা দেশের মোট জনশক্তির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ গঠন করে। এত বড় কর্মশক্তির জন্য বেতন কাঠামোর পুনর্বিবেচনা করা অর্থনৈতিক নীতি ও জনসাধারণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশে মুদ্রাস্ফীতি উচ্চমাত্রায় বজায় রয়েছে; ভোক্তা মূল্যসূচক ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে কর্মচারীদের বাস্তব আয় ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি সরকারকে নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের দিকে ত্বরান্বিত করেছে, যাতে কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা যায়।
বেতন কমিশন গঠনের মূল উদ্দেশ্য হল বর্তমান পে‑স্কেলের ঘাটতি চিহ্নিত করা এবং বাস্তবিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে সমন্বয় প্রস্তাব করা। কমিশনের সদস্যরা অর্থনীতি, মানবসম্পদ, পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং শ্রম বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত, যা বিষয়টির বহুমুখী বিশ্লেষণ নিশ্চিত করে।
কমিশনের ২১ সদস্য বর্তমানে ডেটা সংগ্রহ, আন্তর্জাতিক বেতন মানের তুলনা এবং দেশের মুদ্রাস্ফীতি প্রবণতা বিশ্লেষণ করছেন। তারা বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে, বর্তমান বেতন কাঠামোর সুবিধা-অসুবিধা মূল্যায়ন করছেন। এই প্রক্রিয়ার শেষে একটি সমন্বিত প্রতিবেদন প্রস্তুত হবে, যেখানে নতুন বেতন স্তর, ভাতা কাঠামো এবং সম্ভাব্য সমন্বয় পরিকল্পনা থাকবে।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সরকার দ্রুতই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করবে। নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদিত হলে তা সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগে প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গৃহীত হবে। এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে অনুমান করা হচ্ছে যে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নতুন পে‑স্কেল কার্যকর করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, নতুন বেতন কাঠামো সরকারকে জনমত সুনাম বাড়াতে সহায়তা করবে, বিশেষ করে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি সময়ে কর্মচারীদের আয় সুরক্ষিত করার মাধ্যমে। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করছেন, অতিরিক্ত বেতন বৃদ্ধি বাজেটের ওপর চাপ বাড়াতে পারে, যা আর্থিক ঘাটতি ও ঋণ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেছেন, বেতন কমিশনের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর সরকার দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেবে, যাতে কর্মচারীদের আয় পুনরুদ্ধার হয় এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। তিনি আরও জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের সময় সরকার কর্মচারীদের বাস্তবিক চাহিদা ও আর্থিক সক্ষমতা দুটোই বিবেচনা করবে।
সারসংক্ষেপে, সরকার বেতন কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২১ সদস্যের কমিশন বিশদ বিশ্লেষণের পর শীঘ্রই প্রতিবেদন জমা দেবে, এবং তা ভিত্তিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রায় পনেরো লক্ষ সরকারি কর্মচারীর বেতন ও ভাতা পুনর্গঠন করা হবে। এই পদক্ষেপটি মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব কমিয়ে কর্মচারীদের বাস্তবিক আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে, যা দেশের আর্থিক নীতি ও জনমত উভয়ের ওপর প্রভাব ফেলবে।



