শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (এসইউএসটি) এর ছাত্ররা গত রাত ১১ টার কাছাকাছি ক্যাম্পাসের আইআইসিটি ভবনের সামনে একত্রিত হয়ে ইলেকশন কমিশনের নতুন নির্দেশনা নিয়ে প্রতিবাদ শুরু করে। কমিশনের আদেশে সব পেশাগত সংস্থা ও সংগঠনকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, যা ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের নির্ধারিত তারিখ, নির্বাচন করা থেকে বাধা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবাদকারীরা একত্রিত হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান রাস্তাগুলোতে একটি শোভাযাত্রা চালায়, যেখানে তারা মঞ্চে স্লোগান ও প্যানেল ধরে তাদের মতামত প্রকাশ করে। শোভাযাত্রার শেষে তারা আইআইসিটি ভবনের সামনে আবার জমায়েত হয় এবং পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করে।
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়ন (এসইউসিএসইউ) এবং হল ইউনিয়নের নির্বাচন ২০ জানুয়ারি নির্ধারিত ছিল। তবে ইসিকিউয়ের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এসইউসিএসইউ নির্বাচন কমিশন এখনও কোনো নতুন তারিখের নোটিশ প্রকাশ করেনি। এই অনিশ্চয়তা ছাত্রদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী ছাত্রদের মতে, এসইউসিএসইউয়ের নির্বাচন দীর্ঘ সময় ধরে স্থগিত রয়েছে এবং ইসিকিউয়ের এই সিদ্ধান্ত তাদের মৌলিক অধিকারকে আঘাত করছে। তারা দাবি করে যে, নির্বাচনের দেরি কেবল তাদের প্রতিনিধিত্বের সুযোগই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমকেও ব্যাহত করছে।
দুরবার সিএসটি-ইউনিয়ন (Durbar SUSTian Oikya) প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থি মুজাহিদুল ইসলাম, যিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তিনি বলেন, “আমরা ছাত্র প্রতিনিধিত্ব চাই, যা আমাদের মৌলিক অধিকার। দীর্ঘদিনের স্থগিত হওয়া এসইউসিএসইউ নির্বাচনকে এই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আরেকবার বাতিল করা হচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “ইসিকিউকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে, না হলে পরিষ্কার সমাধান না পেয়ে আমরা বাড়ি ফিরে যাব না।”
প্রতিবাদকারীরা আজকের সকালেই তাদের পূর্ব পরিকল্পিত কর্মসূচি পরিবর্তন করে নতুন পরিকল্পনা জানায়। তারা বিকেল ৫ টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে সিট-ইন শুরু করবে এবং ৬ টায় একটি প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে তাদের দাবিগুলো পুনরায় উপস্থাপন করবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা ইসিকিউকে তাদের মতামত শোনার এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
শিক্ষা বিভাগের অভিজ্ঞ প্রতিবেদক হিসেবে উল্লেখ করা যায়, এসইউএসটি’র ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী আন্দোলন দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। তবে এইবারের প্রতিবাদ বিশেষভাবে ইসিকিউয়ের জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় এর প্রভাব ও গুরুত্ব বাড়ছে। ছাত্রদের দাবি স্পষ্ট: নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারিত হোক এবং তাদের প্রতিনিধিত্বের অধিকার নিশ্চিত করা হোক।
অবশেষে, শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ: যদি আপনি আপনার ক্যাম্পাসে কোনো সিদ্ধান্তের প্রভাব অনুভব করেন, তবে তা নিয়ে আলোচনা করতে এবং সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নিতে সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আপনার মতামত শোনানো এবং যৌথভাবে সমাধান খোঁজা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার পরিবেশকে সুস্থ রাখে।
আপনার ক্যাম্পাসে চলমান কোনো নীতি বা সিদ্ধান্তে যদি আপনি অসন্তোষ প্রকাশ করতে চান, তবে কীভাবে তা গঠনমূলকভাবে উপস্থাপন করবেন? আপনার মতামত শেয়ার করুন।



