পাবনার সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ ইউনিয়নের হাশামপুর গ্রাম থেকে ২৩ বছর বয়সী সাগর শেখকে সোমবার রাত অর্ধরাতে তাঁতীবন্দ রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি বাড়ির পাশে গোষ্ঠীগত হিংসা করে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের মতে, তাকে চোর সন্দেহে গিরেফন্দা করে পিটিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চালু করেছে।
ঘটনাটি সোমবার রাত প্রায় অর্ধরাতে, রেলস্টেশন পাশের নজরুল ইসলামের বাড়ির কাছাকাছি ঘটেছে। প্রতিবেশীরা জানান, একদল লোক সাগরকে ঘোরাঘুরি করতে দেখার পর সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে আটক করে এবং গিরেফন্দা শুরু করে। পিটুনির ফলে সাগর শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করে।
সুজানগর থানা ওসির ফয়েম উদ্দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। তিনি জানান, মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে এবং সাগরের পরিচয় হাশামপুর গ্রামের মতিন শেখের পুত্র হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ ও পরিস্থিতি এখনো তদন্তাধীন, তা পরিষ্কার হলে জানানো হবে।
পুলিশের মতে, গিরেফন্দা করা ব্যক্তিরা চোর সন্দেহে কাজ করলেও, কোনো সম্পত্তি চুরি বা অন্য কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ঘটনাস্থলে নজরদারি বাড়িয়ে রাখা হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করার জন্য স্থানীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
মৃতদেহের ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তে কোনো শারীরিক আঘাতের প্রমাণ পাওয়া গেলে তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য স্থানীয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্থানীয় মানুষরা এই ঘটনার প্রতি শোক প্রকাশ করে এবং সাগরের পরিবারকে সমবেদনা জানায়। কিছু বাসিন্দা গিরেফন্দা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা চায়, অন্যদিকে কিছু লোক গিরেফন্দা ঘটনার পেছনের সামাজিক কারণ নিয়ে আলোচনা করে।
পুলিশের তদন্ত চলমান থাকায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়া গেলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে। বর্তমানে গিরেফন্দা ও হিংসা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনগত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হচ্ছে।



