27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধনরায়ণগঞ্জে রায়হান মোল্লা কুপিতে নিহত, তিন সন্তান হয়ে গেল এতিম

নরায়ণগঞ্জে রায়হান মোল্লা কুপিতে নিহত, তিন সন্তান হয়ে গেল এতিম

নরায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় রায়হান মোল্লা, ৫০ বছর বয়সী বাবুর্চি, সোমবার রাত ৮:৩০ টার কাছাকাছি ইসদাইর রেললাইন এলাকার রাস্তার ওপরে কুপিতে নিহত হয়। ঘটনায় তার তিন সন্তান—সাব্বির (২৩), ফয়সাল এবং আরেকজন—অতিবেদন অনুযায়ী এখন সম্পূর্ণভাবে এতিম।

মা রাবেয়া বেগমের মৃত্যুর এক বছর পরে রায়হান মোল্লা ও তার সন্তানদের জীবন গরিবি ও একাকীত্বে কাটছিল। রায়হান গরীর জামতলা এলাকার হীরা কমিউনিটি সেন্টারে কাজ করতেন এবং তিনটি সন্তানকে ফতুল্লার তল্লা এলাকায় ভাড়া বাড়িতে রাখতেন। তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর পরিবারের প্রধান আর্থিক দায়িত্ব তার ওপর নেমে আসে।

সন্ধ্যাবেলায় রায়হান মোল্লা রাস্তার উপর হঠাৎ কয়েকজন অপরিচিতের দ্বারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিতে আঘাতপ্রাপ্ত হন। আক্রমণকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয় লোকজন রায়হানকে নিকটস্থ নরায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যার হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফতুল্লা মডেল থানা থেকে জানানো হয়েছে যে, সন্দেহভাজনরা কুপিতে আঘাতের পরই এলোমেলোভাবে পালিয়ে যায়। থানার এসআই উল্লেখ করেছেন যে, কুপিতে আঘাতের পর রায়হানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। বর্তমানে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করছে এবং সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করার জন্য অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।

রায়হানের বড় ছেলে সাব্বির, যিনি ২৩ বছর বয়সী, ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে মৃত দেহ দেখেন। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং “আমরা এতিম হয়ে গেলাম” বলে কাঁদতে কাঁদতে প্রকাশ করেন। ফয়সালও একই সময়ে হাসপাতালে গিয়ে তার বাবার নিথর দেহ দেখেন এবং “বাবা মরে গেছেন, আমাদের আর কেউ নেই” বলে কান্না করেন।

পরিবারের সদস্যদের মতে, রায়হান কয়েক দিন আগে চাষাঢ়া রেলস্টেশনে অস্থায়ী খাবারের দোকান খুলতে চেয়েছিলেন। তবে স্থানীয় এক ব্যক্তি রাজ্জাকের হস্তক্ষেপে দোকানটি বন্ধ করা হয় এবং চাঁদা দিতে বাধ্য করা হয়। এই বিরোধই সম্ভবত হিংসার কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যদিও তদন্ত চলমান।

পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করতে পারেনি। থানা প্রধান জানান, কুপিতে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র এবং ঘটনাস্থলের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তের পরবর্তী ধাপে, সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা এবং অপরাধের প্রেরণা নির্ধারণ করা হবে। পরিবারকে সহায়তা করার জন্য স্থানীয় সামাজিক সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবকরা সাহায্য প্রদান করছে।

রায়হান মোল্লার মৃত্যু নরায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। তিন সন্তান এখন সম্পূর্ণভাবে একা, আর তাদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও জীবিকার প্রশ্ন রয়ে গেছে। পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা এবং পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা জরুরি।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments