নিউ জিল্যান্ডের টি-২০ সুপার স্ম্যাশে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বেভন জ্যাকবস ৫১ বলের অপরাজিত ৭৮ রান তৈরি করে দলকে জয়ী করিয়েছেন। তার আক্রমণাত্মক খেলা পাঁচটি চতুর্থাংশ ও সাতটি ছয় দিয়ে শেষ হয়, ফলে অকল্যান্ডের লক্ষ্য ১৬০ রানে পৌঁছে আটটি বল বাকি রেখে পাঁচ উইকেটের সঙ্গে জয় নিশ্চিত করে।
এই পারফরম্যান্স জ্যাকবসের স্বীকৃত টি-২০ ফরম্যাটে পঞ্চাশের ধারাবাহিকতা পাঁচ ম্যাচে বাড়িয়ে দেয়। তিনি ২০২১ সালে ডেভন কনওয়ে পাঁচটি ধারাবাহিক পঞ্চাশে রেকর্ড করেছিলেন, আর এখন জ্যাকবস সেই ধারাকে সমান করে তুলেছেন।
সুপার স্ম্যাশের প্রথম ম্যাচে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের বিপক্ষে ৫৫ রান, পরের খেলায় ওয়েলিংটনের বিরুদ্ধে ৫৪ রান, এরপর ওটাগোর সামনে ৫৩ রান যোগ করেন। ক্যান্টারবুরি ম্যাচে ৮৮* অচল রেখে, আবার ওটাগোর বিরুদ্ধে ৫০ রান করে তিনি ধারাটিকে সম্পূর্ণ করেন।
এ পর্যন্ত স্বীকৃত টি-২০তে জ্যাকবস ২৮টি ইনিংস খেলেছেন, যার মধ্যে সাতটি পঞ্চাশের ইনিংস রয়েছে। তার সামগ্রিক স্ট্রাইক রেট ১৫০.১৭, এবং মোট স্কোর ৮৫০ রান। এই পরিসংখ্যান তাকে টুর্নামেন্টের অন্যতম আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান করে তুলেছে।
টানা পঞ্চাশের সর্বোচ্চ রেকর্ড বর্তমানে ভারতের রিয়ান পারাগের হাতে রয়েছে; তিনি ২০২৩ সালের সৈয়দ মুশতাক আলি টুর্নামেন্টে সাতটি ধারাবাহিক ইনিংসে পঞ্চাশের সীমা অতিক্রম করেন। আফগানিস্তানের সেদিকউল্লাহ আটাল ছয়টি ধারাবাহিক পঞ্চাশে রেকর্ড রাখেন।
ভারতের ভিরেন্দ্র শেবাগ, জিম্বাবুয়ের হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, পাকিস্তানের কামরান আকমল, ইংল্যান্ডের জস বাটলার, অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার, ট্রাভিস হেড এবং ইতালির ওয়েন ম্যাডসেনও টানা পাঁচটি পঞ্চাশে পৌঁছেছেন। এই খেলোয়াড়দের নামগুলো জ্যাকবসের বর্তমান ফর্মের সঙ্গে তুলনা করা যায়।
জ্যাকবসের ধারাবাহিকতা কনওয়ের রেকর্ডকে চ্যালেঞ্জ করার পর্যায়ে রয়েছে, যদিও এখনো সর্বোচ্চ ধারার সংখ্যা অতিক্রম করেনি। তবে তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে দেখা যায় যে তিনি দ্রুতই ঐ রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেন।
সুপার স্ম্যাশের পরবর্তী রাউন্ডে জ্যাকবসের দল আবারও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের মুখোমুখি হবে, যেখানে তার ব্যাটিং ফর্ম টিমের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই ধারাবাহিক পঞ্চাশের রেকর্ড শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং নিউ জিল্যান্ডের টি-২০ ব্যাটিং শক্তির নতুন দিক উন্মোচন করেছে। জ্যাকবসের আক্রমণাত্মক শৈলী এবং উচ্চ স্ট্রাইক রেট টুর্নামেন্টে তার প্রভাবকে আরও দৃঢ় করেছে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, জ্যাকবসের ধারাবাহিকতা এবং দ্রুত স্কোরিং ক্ষমতা তাকে আন্তর্জাতিক টি-২০ পর্যায়ে আরও বড় সুযোগের দরজা খুলে দেবে। তার পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে নিউ জিল্যান্ডের টি-২০ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, বেভন জ্যাকবসের টানা পাঁচটি পঞ্চাশের পারফরম্যান্স কনওয়ের রেকর্ডের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে এবং স্বীকৃত টি-২০তে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।



