27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবোম্বে হাই কোর্ট ই-ম্যাক্সের পক্ষে রায় দিয়ে ২৮ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার কার্যকরী...

বোম্বে হাই কোর্ট ই-ম্যাক্সের পক্ষে রায় দিয়ে ২৮ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার কার্যকরী করল

বোম্বে হাই কোর্ট ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ই-ম্যাক্স কর্পোরেশনকে তার ১৮ বছরের পুরনো চুক্তি বিরোধে জয়ী ঘোষণা করেছে। আদালত ই-ম্যাক্সের পক্ষে সব দাবিকে স্বীকৃতি দিয়ে ২০০৬‑২০০৮ সালের মধ্যে আরবিট্রেশন কমিশন যে পুরস্কার দিয়েছিল, তা এখন আদালতের আদেশ হিসেবে কার্যকর করা হবে। মোট পুরস্কার মূলধন ২৮ মিলিয়ন ডলারের বেশি, যার ওপর সুদ যুক্ত হয়েছে।

বিবাদের মূল কারণ ২০০০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ই-ম্যাক্স ও ই‑সিটি এন্টারটেইনমেন্টের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি। ঐ চুক্তি অনুযায়ী ই‑সিটি, যেটি ফান সিনেমা ও ফান রিপাবলিকের পরিচালনা করত এবং এসসেল গ্রুপের সাবহাশ চন্দ্রা ও জি ইন্টারটেইনমেন্টের অংশীদার, কমপক্ষে ছয়টি ই-ম্যাক্স স্ক্রিন চালু করার দায়িত্বে ছিল। তবে সময়ের সাথে সাথে ই‑সিটি এই বাধ্যবাধকতা থেকে সরে যায় এবং প্রকল্পটি সম্পন্ন না করে।

চুক্তি ভঙ্গের পর ই-ম্যাক্স আন্তর্জাতিক আরবিট্রেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০০৬, ২০০৭ এবং ২০০৮ সালে তিনটি পৃথক পুরস্কার পায়। এই পুরস্কারগুলোতে ই‑সিটির ওপর উল্লেখযোগ্য আর্থিক দায় আরোপ করা হয়, তবে ই‑সিটি বহুবার আইনি আপিল ও বিভিন্ন পিটিশনের মাধ্যমে কার্যকর হওয়া থেকে রোধ করার চেষ্টা করে।

বোম্বে হাই কোর্টের রায়ে আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, ই‑সিটি দুই দশকের বেশি সময় ধরে ই-ম্যাক্সের অধিকারকে বাধা দিতে চেয়েছে। আদালত বলেছে, বিদেশি আরবিট্রেশন পুরস্কারকে অস্বীকার করা বা দেরি করা কোনো ভারতীয় পাবলিক পলিসি বা প্রয়োগের নীতি অনুসারে নয়। আরবিট্রেশন ও কনসিলিয়েশন অ্যাক্টের পার্ট II-তে নির্ধারিত প্রয়োগের নীতি অনুযায়ী, বিদেশি পুরস্কারকে বাধা দেওয়া অনুচিত।

অধিকন্তু, আদালত ই‑সিটিকে পাঁচ লাখ রুপি খরচের দায় আরোপ করেছে, যা চার সপ্তাহের মধ্যে ই-ম্যাক্সকে প্রদান করতে হবে। এই খরচের আদেশটি ই‑সিটির দীর্ঘমেয়াদী এবং অনিশ্চিত আইনি কৌশলকে দমন করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। রায়ের সঙ্গে সঙ্গে আদালত উভয় পক্ষকে জানিয়েছে যে, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল ১১ টায় এক্সিকিউটিং কোর্টে হাজির হতে হবে, যাতে পুরস্কার কার্যকর করার প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়।

ই-ম্যাক্সের জন্য এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল বহন করে। এটি দেখায় যে, বিদেশি আরবিট্রেশন পুরস্কার কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আদালতের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব, যদিও তা বহু বছর পরেও হোক। ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে ভারতীয় বাজারে চুক্তি রক্ষা ও আইনি সুরক্ষা সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পেতে পারে।

ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে এই রায়ের প্রভাব বহুস্তরে অনুভূত হবে। প্রথমত, সিনেমা ও বিনোদন শিল্পে বিদেশি প্রযুক্তি সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোকে চুক্তি লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমে যাবে, যা নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়তা করবে। দ্বিতীয়ত, ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে চুক্তি শর্ত মেনে চলা এবং আরবিট্রেশন ফলাফলকে সম্মান করার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে, যা ভবিষ্যতে চুক্তি আলোচনায় অধিক সতর্কতা আনবে। তৃতীয়ত, আরবিট্রেশন ও কনসিলিয়েশন অ্যাক্টের প্রয়োগে আদালতের দৃঢ়তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক বিরোধের সমাধানে ভারতকে আরও নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

সারসংক্ষেপে, বোম্বে হাই কোর্টের এই রায় ই-ম্যাক্সকে দীর্ঘস্থায়ী আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করেছে এবং ভারতীয় আইনি ব্যবস্থার বিদেশি আরবিট্রেশন পুরস্কার প্রয়োগে দৃঢ়তা প্রকাশ করেছে। এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়াতে পারে, তবে একই সঙ্গে ভারতীয় ব্যবসায়িক সংস্থাগুলোর জন্য চুক্তি পালনের গুরুত্বকে পুনরায় জোরদার করেছে। বাজারে এই রায়ের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে, বিশেষ করে উচ্চপ্রযুক্তি বিনোদন সেক্টরে, যেখানে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Bollywood Hungama
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments