20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনপ্রশান্ত তামাংয়ের মৃত্যুর পর গোরখা সম্প্রদায়ের সমবেদনা ও স্মরণ

প্রশান্ত তামাংয়ের মৃত্যুর পর গোরখা সম্প্রদায়ের সমবেদনা ও স্মরণ

দিল্লিতে বাড়িতে হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতায় প্রখ্যাত গায়ক-অভিনেতা প্রশান্ত তামাং, ৪৩ বছর বয়সে ২০২৩ সালের রবিবার মারা যান। তামাং, যিনি দার্জিলিংয়ের গোরখা সম্প্রদায়ের গর্ব, তার মৃত্যু সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

মৃতদেহকে সোমবার দার্জিলিংয়ের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তার পরিবার ও সমর্থকরা শোকের ছায়া ছড়িয়ে রাখেন। শহরের রাস্তায় গোরখা মানুষজন একত্রিত হয়ে তার শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি নেয়।

সামাজিক মাধ্যমে তামাংয়ের প্রতি শোকের প্রকাশ বাড়তে থাকে; ভক্তরা তার গানের ক্লিপ, ছবি ও স্মৃতিচারণা শেয়ার করে দুঃখ প্রকাশ করেন। অনলাইন মন্তব্যে তার সঙ্গীতের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও গোরখা সমাজের গর্বের কথা উঠে আসে।

প্রশান্ত তামাংয়ের ক্যারিয়ার গোরখা জনগণের জন্য গর্বের বিষয়। তিনি গানের মাধ্যমে গোরখা সংস্কৃতিকে জাতীয় মঞ্চে তুলে ধরেছেন, যা সম্প্রদায়ের আত্মমর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছে।

গোরখা সম্প্রদায়, যা মূলত নেপালি ভাষাভাষী এবং উত্তরাখণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বসবাস করে, তামাংকে তাদের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি হিসেবে দেখেছে। এই গোষ্ঠী নেপালের গুরখা সেনাবাহিনীর সঙ্গে ঐতিহাসিক সংযোগ ভাগ করে।

মৃত্যুর পরের দিন, তামাংয়ের বাড়ির কাছাকাছি রাস্তা ভরে ওঠে ভক্তদের সমাবেশে; তারা শেষ বিদায়ের জন্য মোমবাতি জ্বালিয়ে একত্রিত হন। সমাবেশে গোরখা জনমুক্তি আন্দোলনের নেতা বিমল গুরুংও উপস্থিত ছিলেন।

বিমল গুরুং, গোরখা জনমুক্তি আন্দোলনের প্রধান, তামাংকে “সম্পূর্ণ গোরখা সম্প্রদায়ের আশা ও আকাঙ্ক্ষা বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরেছেন” বলে উল্লেখ করেন। তিনি তামাংকে গোরখা জনগণের গর্বের প্রতীক হিসেবে প্রশংসা করেন।

গুরুং আরও বলেন, তামাং সঙ্গীতের মাধ্যমে কেবল ভারতীয় গোরখা নয়, বিশ্বজুড়ে গোরখা জনগণকে একত্রিত করেছেন। তার সুরের ছোঁয়া বহু হৃদয়ে সাড়া জাগিয়েছে, যা তার উত্তরাধিকারকে শক্তিশালী করে।

২০০৭ সালে তামাং যখন ইন্ডিয়ান আইডল তৃতীয় সিজনে অংশ নেন, তখন গোরখা সমাজের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে ওঠে। তার জয় গোরখা জনগণের জন্য দীর্ঘদিনের স্বীকৃতির দরজা খুলে দেয়।

দার্জিলিংয়ের অনেক পরিবার মোবাইল ফোন কেনার জন্য অর্থ সংগ্রহ করে, যাতে ভোটের মাধ্যমে তামাংকে সমর্থন করা যায়। তামাং জয়লাভের পর, তার সমর্থকরা তার জন্য পূজা-অনুষ্ঠানও আয়োজন করে, যা তার প্রতি গভীর বিশ্বাসের পরিচয় দেয়।

শো শেষ হওয়ার পর, একটি রেডিও জ্যাকির তামাংয়ের জয়ের উপর করা আপত্তিকর মন্তব্যের ফলে পশ্চিমবঙ্গে প্রতিবাদ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনা গোরখা সম্প্রদায়ের সংবেদনশীলতা ও গর্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।

প্রশান্ত তামাংয়ের মৃত্যু গোরখা সমাজে শূন্যতা তৈরি করেছে, তবে তার সঙ্গীত ও সামাজিক অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা রূপে রয়ে যাবে। তার স্মৃতি গোরখা জনগণের হৃদয়ে চিরস্থায়ী হবে।

সমাজের বিভিন্ন স্তরে তামাংয়ের প্রতি সম্মানসূচক অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করা হয়েছে; তার গানের মাধ্যমে গোরখা সংস্কৃতির প্রচার অব্যাহত থাকবে। তামাংয়ের জীবন ও কর্ম গোরখা জনগণের গর্বের নিদর্শন হিসেবে স্মরণীয় হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments