27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপাকিস্তান উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আফগান-ভারত সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা

পাকিস্তান উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আফগান-ভারত সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা

আফগানিস্তান ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সংযোগের তীব্রতা পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার মুখে তীব্র উদ্বেগের স্রোত তৈরি করেছে। তারার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে কাবুল এবং নয়াদিল্লির বাড়তে থাকা পারস্পরিক সম্পর্কের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। পাকিস্তান সরকার এই উন্নয়নকে তার নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্বার্থের সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখছে।

আত্তাউল্লাহ তারা কাবুলের প্রতিনিধিদের ভারতে ঘন ঘন সফরের পেছনে কী ধরনের সহযোগিতা লুকিয়ে আছে তা স্পষ্ট করতে চেয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে আফগান সরকার প্রায় প্রতিদিনই ভারতের রাজধানীতে ভ্রমণ করে এবং নতুন দিল্লির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। তবে এই আলোচনার বিষয়বস্তু ও লক্ষ্য সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

তারা জোর দিয়ে বলেন যে আফগান-ভারতীয় সম্পর্কের প্রকৃত রূপ ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে, তবে তা এখনও গোপনীয়তা বজায় রাখে। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে কি বিশেষ বাণিজ্যিক চুক্তি গড়ে উঠছে, নাকি নিরাপত্তা, তথ্য বা কৌশলগত ক্ষেত্রের কোনো সমন্বয় চলছে। এসব প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে পাকিস্তান এই সংযোগকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছে।

পাকিস্তান সরকার উল্লেখ করেছে যে আফগানিস্তান এখনও এই বিষয়ের ওপর কোনো সরকারি মন্তব্য করেনি। যদিও কাবুলের পক্ষ থেকে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে নিজের বিদেশ নীতি নির্ধারণের অধিকার স্বীকার করা হয়েছে, তবে পাকিস্তান এই স্বীকৃতিকে তার নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে ব্যাখ্যা করছে।

আফগানিস্তান সরকার স্পষ্ট করে বলেছে যে কাবুল ও নয়াদিল্লির সম্পর্কের উন্নতি স্বয়ং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো কৌশলগত পদক্ষেপের সূচক নয়। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে তাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে করা হয়। এই অবস্থান পাকিস্তানের উদ্বেগকে তীব্রতর করে তুলেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ওয়াহিদ ফকিরি উল্লেখ করেন যে পাকিস্তান দীর্ঘদিন থেকে আফগান-ভারতীয় ঘনিষ্ঠতার প্রতি সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি রাখে। তবে তিনি তর্ক করেন যে আফগানদের স্বতন্ত্রভাবে কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার অধিকার রয়েছে এবং তা অতিরিক্তভাবে প্রশ্ন করা উচিত নয়। ফকিরি বলেন, এই ধরনের উদ্বেগ পারস্পরিক আস্থা হ্রাসের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কাবুল ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক মিথস্ক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েছে। এই সময়ে আফগান সরকারের কয়েকজন শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের ভ্রমণ করেছেন, যার মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী নূরুদ্দিন আজিজি এবং জনস্বাস্থ্যমন্ত্রী নূর জালাল জালালি অন্তর্ভুক্ত। এই সফরগুলোকে পাকিস্তান সন্দেহের দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করছে।

মন্ত্রিসভার এই উচ্চ পর্যায়ের ভ্রমণগুলোকে পাকিস্তান কূটনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জিং হিসেবে ব্যাখ্যা করছে, কারণ তা কাবুলের ভারতীয় নীতির প্রতি উন্মুক্ততা নির্দেশ করে। পাকিস্তান সরকার এই প্রবণতাকে তার কৌশলগত অবস্থানকে দুর্বল করার সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে। ফলে দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে ভবিষ্যতে আফগান-ভারতীয় সম্পর্কের গভীরতা বাড়লে পাকিস্তান তার কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনা করতে পারে। এর মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক চুক্তি এবং তথ্য শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে নতুন সমন্বয় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে বর্তমানে কোনো সরকারি প্রতিক্রিয়া না থাকায় পরিস্থিতি অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।

সারসংক্ষেপে, আফগানিস্তান ও ভারতের বাড়তে থাকা কূটনৈতিক সংযোগ পাকিস্তানের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যদিও আফগান সরকার স্বতন্ত্র নীতি অনুসরণ করার দাবি করে। উভয় পক্ষের মধ্যে এই পারস্পরিক সম্পর্কের প্রকৃতি ও পরিণতি ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনার মূল বিষয় হয়ে থাকবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments