ঢাকার হোটেল লা মেরিডিয়ানে ১৩ জানুয়ারি সকাল থেকে তিন দিনব্যাপী দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলন শুরু হয়েছে। সম্মেলনের থিম ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা‑২০২৬’। এই উদ্যোগের উদ্বোধন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী ভাষণ প্রদান করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরারকে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বাগত জানানো হয়। উভয়জন উচ্চশিক্ষার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রতিনিধিদের মধ্যে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারক, গবেষক ও শিক্ষাবিদ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সম্মেলনটি বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) পরিচালিত ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য উচ্চশিক্ষার গতি বৃদ্ধি এবং গুণগত মানের উন্নয়ন। ইউজিসি উল্লেখ করেছে যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করা হবে। সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা সহ আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা, পাশাপাশি ইউজিসি ও উচ্চশিক্ষা কমিশনের সদস্য, বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, গবেষক ও কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন। এই বৈচিত্র্যময় অংশগ্রহণ আঞ্চলিক সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করে। ইউজিসি জানায়, সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য হল উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করা এবং আঞ্চলিক নেটওয়ার্কের সংহতি বৃদ্ধি করা। এছাড়া, শিক্ষার অন্তর্ভুক্তি ও গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য নীতি নির্ধারণে সমন্বয় সাধন করা হবে। এই লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য আটটি সেশন পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম দিন দুইটি মূল সেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম সেশনটি দক্ষিণ এশিয়ায় উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা, শাসনব্যবস্থা, গুণগত মান ও অন্তর্ভুক্তি বিষয়ক। দ্বিতীয় সেশনটি গবেষণা, উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন এবং সামাজিক সম্পৃক্ততার ওপর কেন্দ্রীভূত থাকবে। উভয় সেশনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করবেন। দ্বিতীয় দিনের সূচিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংযোজন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং স্মার্ট লার্নিং ইকোসিস্টেমের ওপর বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হবে। এছাড়া, স্নাতক শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিল্প-শিক্ষা সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষার পথনির্দেশনা বিষয়ক সেশন থাকবে। উপাচার্য ও নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে হিট প্রকল্পের প্রেক্ষাপটও বিশ্লেষণ করা হবে। দ্বিতীয় দিনের সেশনগুলোতে এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তি কীভাবে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে, তা নিয়ে বাস্তব উদাহরণ উপস্থাপন করা হবে। শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রমের পরিবর্তন ও শিক্ষার্থীর দক্ষতা বৃদ্ধির কৌশলও আলোচনা হবে। এই আলোচনার ফলাফল আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণে প্রণোদনা দেবে। তৃতীয় দিন জেন্ডার ইস্যু এবং উচ্চশিক্ষায় সমতা বিষয়ক আলোচনায় সমাপ্ত হবে। এই সেশনের শেষে ‘ঢাকা হায়ার এডুকেশন ডিক্লারেশন’ ঘোষিত হবে, যা আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা নীতি ও সহযোগিতার নতুন দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। ডিক্লারেশনটি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কর্মসূচির ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অংশগ্রহণকারীরা আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে মতবিনিময় করবেন। ডিক্লারেশনে উল্লেখিত লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বিত কাজের প্রয়োজন হবে। এই সমন্বয় উচ্চশিক্ষার গুণগত মান ও প্রবেশযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে এই সম্মেলন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। ইউজিসি ও হিট প্রকল্পের সমর্থনে দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে পারবে। আঞ্চলিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জ্ঞান শেয়ারিং ও যৌথ প্রকল্পের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। হিট প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত এই সম্মেলন, উচ্চশিক্ষার দ্রুত পরিবর্তনশীল চাহিদা মোকাবেলায় নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মঞ্চ তৈরি করেছে। এআই, ডিজিটাল লার্নিং এবং শিল্প-শিক্ষা সংযোগের মতো আধুনিক থিমগুলোকে কেন্দ্র করে বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাধান প্রস্তাব করা হবে। ফলে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত পরিবর্তনশীল বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে পারবে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে, সম্মেলনের ফলাফল আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা নীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা যোগ করবে এবং দেশীয় শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারকে ত্বরান্বিত করবে। বিশেষ করে, গবেষণা ও উদ্ভাবনের পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। এই সহযোগিতা শিক্ষার্থীর গ্লোবাল মুভাবিলিটি ও কর্মসংস্থান সম্ভাবনা উন্নত করবে। আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারবে। বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে নীতি নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি স্থাপন করা সম্ভব হবে। ফলে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করতে পারবে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন স্কলারশিপ, গবেষণা তহবিল এবং আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের সুযোগও উন্মুক্ত হতে পারে। অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই সুযোগগুলোকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীর দক্ষতা ও কর্মসংস্থান সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে পারবে। তাই, শিক্ষার্থীদের জন্য এই তথ্যগুলো অনুসরণ করা এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণার দিকে নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক টিপস: যদি আপনি উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তবে সম্মেলনে উল্লিখিত এআই ও ডিজিটাল লার্নিং স্কিল শিখতে শুরু করুন এবং আন্তর্জাতিক স্কলারশিপের জন্য আবেদন করুন। এছাড়া, আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সম্ভাব্য এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম সম্পর্কে জানুন। এই পদক্ষেপগুলো আপনার ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সম্মেলনের শেষ দিনে ঘোষিত ‘ঢাকা হায়ার এডুকেশন ডিক্লারেশন’ আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা নীতি গঠনে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করবে। ডিক্লারেশনে উল্লেখিত লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে। এই সমন্বয় উচ্চশিক্ষার গুণগত মান ও প্রবেশযোগ্যতা উভয়ই উন্নত করবে। সারসংক্ষেপে, দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলনটি উচ্চশিক্ষার বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলন উদ্বোধন, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত
0
10
৬৫/১০০
১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES



