বাংলাদেশ ব্যাংক রপ্তানিকারকদের জন্য নগদ সহায়তার শর্তাবলী সম্প্রসারিত করে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে মোট ৪৩টি পণ্য‑সেবা খাতে রপ্তানিকৃত পণ্যের বিপরীতে আর্থিক প্রণোদনা পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারকরা এখন আর্থিক বছরের শেষ পর্যন্ত এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারবে।
প্রাথমিকভাবে এই প্রণোদনা জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসের জন্য ঘোষিত হয়েছিল। তবে রপ্তানি প্রবণতা ও বাজারের চাহিদা পুনর্মূল্যায়নের পর ব্যাংক অতিরিক্ত ছয় মাসের জন্য মেয়াদ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেয়।
বর্ধিত মেয়াদে পূর্ববর্তী বছরের একই হার বজায় রাখা হয়েছে, ফলে রপ্তানিকর্তারা অতিরিক্ত কোনো শর্তে না পড়ে একই শতাংশে নগদ সহায়তা পাবেন। এই ধারাবাহিকতা রপ্তানি শিল্পে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
প্রণোদনার হার পণ্য ও সেবা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন, সর্বনিম্ন ০.৩০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারিত। মোট ৪৩টি পণ্য‑সেবা খাত এই স্কেলে অন্তর্ভুক্ত, যা দেশের রপ্তানি পোর্টফোলিওকে বিস্তৃত করে।
বস্ত্র‑খাতে প্রথম ছয় মাসে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র‑ব্যাকের বিকল্প হিসেবে ১.৫ শতাংশ নগদ সহায়তা প্রদান করা হবে। ইউরো অঞ্চলে রপ্তানিকর্তাদের জন্য অতিরিক্ত ০.৫০ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনা যুক্ত করা হয়েছে। নতুন পণ্য ও নতুন বাজারে রপ্তানির জন্য অতিরিক্ত ২ শতাংশ প্রণোদনা নির্ধারিত।
প্রস্তুত পোশাক শিল্পে বিশেষ প্রণোদনা ০.৩০ শতাংশ নির্ধারিত, যেখানে বৈচিত্র্যময় পাটপণ্যে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ, পাটজাত চূড়ান্ত পণ্য ও পাটসুতায় ৩ শতাংশ, এবং গরু‑মহিষের নাড়ি রপ্তানিতে ৬ শতাংশ সহায়তা দেওয়া হবে।
হিমায়িত মৎস্য পণ্যের জন্য ১.৫০ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত হার নির্ধারিত, হালকা প্রকৌশল পণ্য, আলু ও অন্যান্য কৃষিপণ্যে ১০ শতাংশ, ক্রাস্ট লেদার, ফিনিশড লেদার এবং পেট বোতল‑ফ্লেক্সে ৬ শতাংশ প্রণোদনা থাকবে।
জাহাজ রপ্তানিতে ৬ শতাংশ নগদ সহায়তা, পাটকাঠি‑ভিত্তিক কার্বন, শস্য‑শাকসবজি, ফার্নিচার, আগর‑আতর পণ্য এবং দেশীয় কাগজ‑পণ্যে একই হার প্রযোজ্য। এভাবে মোট ৪৩টি পণ্য‑সেবার জন্য ভিন্ন ভিন্ন হারে নগদ সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রণোদনা গ্রহণের পূর্বে রপ্তানিকারকদের সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে নিয়োজিত বহিঃনিরীক্ষক বা অডিট ফার্মের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। এই শর্তটি আর্থিক স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার জন্য যুক্ত করা হয়েছে।
বর্ধিত প্রণোদনা রপ্তানি শিল্পে প্রবাহ বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোগের জন্য নগদ সহায়তা মূলধন প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
দীর্ঘমেয়াদে এই নীতি রপ্তানি কাঠামোকে বৈচিত্র্যময় করতে এবং নতুন পণ্য‑সেবা খাতের উন্নয়নে ত্বরান্বিত করবে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা পরিবর্তন ও গ্লোবাল চাহিদার ওঠানামা রপ্তানি আয়কে প্রভাবিত করতে পারে, তাই নীতিনির্ধারকদের পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।



