বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে জাল সনদে শিক্ষক নিয়োগের প্রবণতা রোধে সরকার নতুন নীতি প্রয়োগ করেছে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে জাল নিবন্ধন সনদধারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে।
এই উদ্যোগের প্রথম ধাপ হিসেবে দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৬,০০০‑এর বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সনদ পর্যায়ক্রমে যাচাই করা হবে। পাইলট পর্যায়ে গাজীপুর, নরসিংদী ও ভোলা জেলাকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট সব এমপিও (Member of Pay Order) শিক্ষকের তথ্য, নভেম্বর ২০২৫ সালের এমপিও শিট এবং নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি সংগ্রহ করা হবে।
এনটিআরসিএ’র সহকারী পরিচালক ফয়েজার আহমেদ উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জাল সনদ নিয়ে খবর প্রকাশ পেয়েছে, যা এই কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি জানান, পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথমে গাজীপুর, নরসিংদী ও ভোলা জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও শিক্ষকদের তথ্য যাচাই করা হবে, এরপর ধীরে ধীরে বাকি ৬১টি জেলায় একই প্রক্রিয়া চালু করা হবে।
এনটিআরসিএ’র আরেকজন কর্মকর্তা জানান, জাল সনদধারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। ৭ জানুয়ারি তারিখে এনটিআরসিএ’র সদস্য মুহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী একটি জরুরি পত্রে উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক মিডিয়া রিপোর্টে জাল সনদের খবর নজরে এসেছে। ফলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সহকারী প্রধানসহ সকল এমপিও শিক্ষকের তথ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের এমপিও শিট এবং সনদের সত্যায়িত কপি যাচাই করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে নির্দিষ্ট ফরমে সব এমপিও শিক্ষকের নাম, পদবী, শূন্য পদের বিবরণ, নভেম্বর ২০২৫ সালের এমপিও শিট এবং সনদের রঙিন ফটোকপি পাঠাতে বলা হয়েছে। এই নথিগুলো ডাক, কুরিয়ার বা হস্তান্তরের মাধ্যমে এনটিআরসিএ কার্যালয়ে জমা দিতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও প্রধানের স্বাক্ষরিত অগ্রায়ণ পত্র সংযুক্ত থাকতে হবে।
পত্রে স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে যে, তথ্য প্রেরণে কোনো বিলম্ব, গোপনীয়তা লঙ্ঘন বা সনদে পরিবর্তন ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নির্দেশনা শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলোর নজরে রয়েছে, যা নীতি প্রয়োগে সমন্বিত প্রচেষ্টা নিশ্চিত করবে।
প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকে শিক্ষকদের মূল সনদ ও এমপিও শিটের কপি নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে এবং নিয়মিতভাবে তথ্য আপডেট করতে হবে। শিক্ষকরা নিজেদের সনদের সত্যতা যাচাই করে রাখলে ভবিষ্যতে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হওয়া কমে যাবে।
শিক্ষা ক্ষেত্রের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান বজায় রাখতে এই পদক্ষেপগুলো গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকদের এবং প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হল সঠিক নথি রক্ষা করা এবং সময়মতো তথ্য প্রদান করা, যাতে জাল সনদ সমস্যার সমাধান দ্রুত হয়।
**ব্যবহারিক টিপ:** আপনার সনদ ও এমপিও শিটের ডিজিটাল কপি নিরাপদ ক্লাউড স্টোরেজে সংরক্ষণ করুন এবং নিয়মিতভাবে তারিখ ও স্বাক্ষর যাচাই করুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দলকে এই নীতির সময়সূচি সম্পর্কে অবহিত রাখুন, যাতে কোনো জরুরি নোটিশ মিস না হয়।



