এফএ কাপের তৃতীয় রাউন্ডে লিভারপুলের মিডফিল্ডার দমিনিক সোবোসলাই ৯ মিনিটে ব্যাক‑হিল দিয়ে এক গোল করেন, যা ম্যাচের গতি পরিবর্তন করে। এই গোলটি বার্নলির গোলকিপার মার্ফি কুপারকে অপ্রতিহত রাখে এবং শেষ পর্যন্ত লিভারপুলের জয় নিশ্চিত করে।
বার্নলি কোচ কনোর হাউলিহান গোলটি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এ ধরনের গোল আমাদের দলের জন্য অসম্মানজনক, কারণ প্রিমিয়ার লিগ বা চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে এমনটি করা হতো না।” কোচের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি এই চালকে প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মানের অভাব হিসেবে দেখছেন।
সোবোসলাইয়ের এই গোলের আগে তিনি ৩৫ গজের দূরত্ব থেকে শট মারেন, যা বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া হয়। শটটি সরাসরি গলপোস্টে গিয়ে নেটের মধ্যে ঢুকে যায়, ফলে লিভারপুলের স্কোর দ্রুত বাড়ে। মার্ফি কুপার এই মুহূর্তে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেননি।
ম্যাচে সোবোসলাই শুধুমাত্র গোলই করেননি, তিনি ১০৫টি পাস সম্পন্ন করেন এবং ১২ বার বল দখল করেন, যা তার সামগ্রিক পারফরম্যান্সকে শক্তিশালী করে। তার এই পরিসংখ্যান লিভারপুলের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে মৌসুমের শুরুর দিকে একটি উল্লেখযোগ্য কীর্তি হিসেবে ধরা পড়ে।
লিভারপুলের অন্য তিনটি গোল জেরেমি ফ্রিমপং, ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস এবং হুগো একিতেকে সম্পন্ন করেন। এই তিনজনের সমন্বিত প্রচেষ্টা দলকে বড় ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফলাফলকে নিশ্চিত করে।
গোলের পর সোবোসলাই দলের সামনে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, “আমি দলের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি, একটি সহজ ভুলের ফলে অন্যদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে গেছে।” তার এই স্বীকারোক্তি দলের মধ্যে তার অবস্থানকে কিছুটা হালকা করে।
বার্নলির কোচের মন্তব্যের পাশাপাশি সিটির সাবেক ডিফেন্ডার জোলেয়ন লেসকটও সোবোসলাইয়ের ভুলকে ‘অসন্মানজনক’ বলে উল্লেখ করেন। লেসকটের মতে, এমন একটি গোল প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মানের অভাবের চিহ্ন।
ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখায়, লিভারপুলের আক্রমণাত্মক খেলায় সোবোসলাইয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি ১০টি শটের মধ্যে ১টি গোল করেন এবং তার পাসের সঠিকতা উচ্চমানের। এই পারফরম্যান্স তাকে দলের মূল খেলোয়াড়ের তালিকায় স্থাপন করে।
বার্নলি দলের জন্য এই ফলাফল একটি বড় ধাক্কা, বিশেষ করে যখন তারা এফএ কাপের প্রত্যাশিত অগ্রগতির পথে ছিল। কোচ হাউলিহানের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে দলটি এই ধরনের গোলকে অনুপযুক্ত বলে বিবেচনা করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে চায়।
লিভারপুলের পরবর্তী এফএ কাপের ম্যাচে তারা আবারও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, তবে সোবোসলাইয়ের বর্তমান ফর্ম এবং দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সকে দেখে আশা করা যায় যে তারা সফলতা বজায় রাখবে।
এই ম্যাচে সোবোসলাইয়ের ব্যাক‑হিল গোল কেবল একটি গোলই নয়, এটি ক্রীড়া নীতির দৃষ্টিকোণ থেকে একটি বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোচ ও বিশ্লেষকরা এখন এই ধরনের গোলের নৈতিকতা ও ক্রীড়া মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা করছেন।
সর্বোপরি, লিভারপুলের জয় এবং সোবোসলাইয়ের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এই এফএ কাপের রাউন্ডকে স্মরণীয় করে তুলেছে, যদিও কিছু মন্তব্যে গোলের শৈলীকে সমালোচনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা কীভাবে পরিচালিত হবে তা ক্রীড়া জগতের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ হবে।



