প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সাম্প্রতিক দমনমূলক কার্যক্রমের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের মুখোমুখি। তিনি আগে বলেছিলেন, ইরানীয় প্রতিবাদকারীদের ওপর সরকার যদি সহিংসতা ব্যবহার করে তবে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপের প্রস্তুতি রাখে। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত দমনের পরিমাণ বিশ্বকে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রাখছে।
দশ দিন আগে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ অবস্থায় ইরানীয় প্রতিবাদকারীদের রক্ষা করতে প্রস্তুত। সেই সময়ে ইরানে ব্যাপক দমনমূলক কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি, ফলে তার মন্তব্যকে প্রাথমিক সতর্কতা হিসেবে দেখা হয়।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জানান, ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ কেবল তিনি নিজেই জানেন, আর বিশ্বকে অনুমান চালিয়ে যেতে হবে। এই মন্তব্যের পরেও কোনো স্পষ্ট সংকেত পাওয়া যায়নি।
সিনিয়র কর্মকর্তারা মঙ্গলবার ট্রাম্পকে সম্ভাব্য কৌশলগত বিকল্পগুলো নিয়ে ব্রিফিং দিতে প্রস্তুত। এয়ার ফোর্স ওয়ানে কথা বলার সময় ট্রাম্প উল্লেখ করেন, তিনি ‘কিছু খুব শক্তিশালী বিকল্প’ বিবেচনা করছেন।
সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশ্রেষ্ঠ অপারেশনগুলোর একটি বলে প্রশংসা করার পর, সামরিক হস্তক্ষেপের আকাঙ্ক্ষা বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা তর্ক করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দূর থেকে আক্রমণ করার সক্ষমতা স্পষ্ট হয়েছে; B-2 স্টেলথ বোম্বারগুলো মিসৌরির হোয়াইটম্যান এয়ার ফোর্স বেস থেকে ৩০ ঘণ্টার রাউন্ড ট্রিপ করে ইরানের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক সাইটে বাঙ্কার-বাস্টিং বোমা ফেলেছে।
ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া একই ধরনের দীর্ঘ দূরত্বের আক্রমণ অথবা নির্দিষ্ট রেজিমের উপাদানগুলোকে লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট আক্রমণ হতে পারে। পেন্টাগনের মতে, ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে বিস্তৃত লক্ষ্য তালিকা প্রস্তুত করেছে।
পেন্টাগনের কর্মকর্তারা আরও জানান, সাইবার অপারেশন এবং গোপন মানসিক প্রভাবিতকারী ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ইরানের কমান্ড কাঠামোকে ব্যাহত করার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব পদ্ধতি গোপনীয়তা বজায় রেখে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
ক্যারাকাসের ৩ জানুয়ারি ঘটনার মতো কোনো ব্যাপক সামরিক হস্তক্ষেপ এখনো সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আক্রমণে ইরান কিছুটা দুর্বল হয়েছে, তবু তা ভেনেজুয়েলার মতো নয়, এবং তার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন রকমের।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পদক্ষেপই মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিবেশে বড় পরিবর্তন আনতে পারে, তাই ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পরিণতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।



