ওয়াশিংটন – যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক ও গোপন কৌশল সম্পর্কে বিস্তৃত ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংটি ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্সের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালিত হয় এবং এতে দীর্ঘ দূরত্বের ক্ষেপণাস্ত্র, সাইবার আক্রমণ এবং মানসিক প্রভাবের ক্যাম্পেইনসহ বিভিন্ন বিকল্প আলোচনা করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ-পরিসরের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার এখনও সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের একটি বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে সামরিক পরিকল্পনাকারীরা একই সঙ্গে সাইবার অপারেশন এবং তথ্যপ্রচারমূলক পদক্ষেপকে সমান্তরালভাবে ব্যবহার করার সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন।
সাইবার ক্ষেত্রে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ককে ব্যাহত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মানসিক প্রভাবের ক্যাম্পেইনটি ইরানের অভ্যন্তরীণ জনমতকে পরিবর্তন এবং সরকারের উপর চাপ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয়েছে।
ট্রাম্পের প্রশাসন ইতিমধ্যে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কযুক্ত দেশগুলোর পণ্যের ওপর ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। একই সময়ে, মানবাধিকার সংস্থাগুলি জানাচ্ছে যে, গত তিন সপ্তাহে সরকারবিরোধী প্রতিবাদে ৬০০েরও বেশি demonstrator নিহত হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে একই সঙ্গে তিনি দেশকে ‘যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত’ বলে উল্লেখ করেছেন। এই দ্বৈত অবস্থান ইরানের আন্তর্জাতিক নীতির জটিলতা বাড়িয়ে তুলেছে।
ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে একটি সভা করার পরিকল্পনা করেছে, যেখানে ইরানের ওপর সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে। তবে প্রেসিডেন্টের নিজস্ব অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পূর্বে উল্লেখ করেছিলেন যে, যদি আরও বেশি প্রতিবাদী নিহত হন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ‘অত্যন্ত শক্তিশালী বিকল্প’ বিবেচনা করছে। তিনি আরও জানান যে, ইরানের শীর্ষ নেতারা তাকে ‘আলোচনার জন্য’ ফোন করেছেন, তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার জন্য আগে থেকেই পদক্ষেপ নিতে পারেন।
ইরানের মুদ্রা পতন এবং অর্থনৈতিক অপ্রশাসনের ফলে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর শাসন বৈধতার সংকটে পড়েছে। অর্থনৈতিক সংকটের ফলে জনসাধারণের অসন্তোষ বাড়ছে এবং সরকারকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন যে, ইরানের একজন কর্মকর্তা ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, তেহরানের প্রকাশ্য অবস্থান ও প্রশাসনের গোপন বার্তার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
লেভিট আরও সতর্ক করে জানান যে, প্রেসিডেন্ট প্রয়োজনে সামরিক বিকল্প ব্যবহার করতে দ্বিধা করছেন না এবং তা ‘প্রয়োজনীয় হলে’ প্রয়োগ করা হবে। এই মন্তব্যটি ট্রাম্পের পূর্বের ‘সামরিক হুমকি’ প্রকাশের ধারাকে পুনরায় নিশ্চিত করে।
সামরিক পরিকল্পনাকারীরা ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কোনো পদক্ষেপে প্রধানত বিমানশক্তি ব্যবহার করার কথা ভাবছেন। একই সঙ্গে, ইরানের কমান্ড ও যোগাযোগ কাঠামোকে ব্যাহত করার জন্য বিশেষ অপারেশন চালানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ইরানে অবস্থানরত নাগরিকদের দ্রুত দেশ ত্যাগের অথবা নিরাপদ পরিকল্পনা তৈরির আহ্বান জানিয়েছে। এ ধরনের সতর্কতা দেশের ভেতরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষিতে দেওয়া হয়েছে।



