28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধজাপান গার্ডেন সিটিতে কুকুর‑বিড়াল হত্যার মামলায় সন্দেহভাজনদের অব্যাহতি

জাপান গার্ডেন সিটিতে কুকুর‑বিড়াল হত্যার মামলায় সন্দেহভাজনদের অব্যাহতি

২২ নভেম্বর ২০২৪ রাত ৯টায় ঢাকার জাপান গার্ডেন সিটিতে বাসিন্দারা তাদের আঙিনায় কয়েকটি কুকুর ও একটি বিড়ালকে অস্বাভাবিকভাবে কষ্ট পাচ্ছে দেখেন। প্রাণীগুলো রক্তবমি করে শূন্যে নেমে আসে এবং কয়েক মুহূর্তের মধ্যে মৃত্যুবরণ করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ তিনটি কুকুর ও একটি বিড়ালের মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং বিষ প্রয়োগের সন্দেহে তদন্ত শুরু করে।

মৃতদেহের ময়নাতদন্তে বিষের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়, যা প্রাণীর মৃত্যুতে সরাসরি ভূমিকা রাখে বলে অনুমান করা হয়। এই ভিত্তিতে জাপান গার্ডেন সিটির সেন্ট্রাল কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং অন্যান্য চারজন সদস্যসহ মোট ছয়জনকে মামলার আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

মামলার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পায়। তদন্ত চলাকালীন কুকুর ও বিড়াল হত্যার সত্যতা নিশ্চিত হলেও, সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রমাণের অভাব নির্দেশ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। প্রতিবেদনে আসামিদের অব্যাহতি এবং মামলাটি বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়।

প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯‑এর ১১ নং অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, কোনো প্রাণীর ওপর বিষ প্রয়োগ বা বিষযুক্ত খাবার খাওয়ানো, যার ফলে প্রাণীর মৃত্যু, অঙ্গহানি বা কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়, তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই ধরণের অপরাধের শাস্তি সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অথবা সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের সমন্বয় হতে পারে।

মামলার বাদী মো. রাকিবুল হক, যিনি পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, পিবিআইর প্রতিবেদনকে অগ্রাহ্যযোগ্য বলে প্রকাশ্যে অবমত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রাণীর মৃত্যুর দায়িত্ব তদন্ত সংস্থার, এবং এই প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করে আদালতে আপিল করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

রাকিবুল হক বলেন, “কেউ না কেউ এই প্রাণীগুলোকে হত্যা করেছে, এবং দায়িত্বশীল সংস্থাকে যথাযথভাবে তদন্ত করে দোষীকে শাস্তি দিতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ধরনের ঘটনা সমাজে এখনও বিদ্যমান, তবে জনসচেতনতা ধীরে ধীরে বাড়ছে।

গত ডিসেম্বর পাবনার ঈশ্বরদীর এলাকায় আটটি কুকুরছানাকে বস্তাবন্দী করে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়েছিল, যা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং আদালতে গিয়েও শেষ হয়। এই পূর্বের ঘটনা প্রাণী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

পিবিআইর চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালতে আসামিদের অব্যাহতি প্রস্তাবিত হয়েছে, তবে বাদীর আপিলের পরবর্তী দিকনির্দেশনা এখনও অনিশ্চিত। আদালত যদি আপিল গ্রহণ করে, তবে নতুন তদন্ত বা অতিরিক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে মামলাটি পুনরায় খোলা হতে পারে।

এই মামলায় আইনগত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং প্রমাণের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, প্রাণিকল্যাণ আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ না হলে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

স্থানীয় প্রশাসনও প্রাণী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বিবেচনা করা হচ্ছে যে, জাপান গার্ডেন সিটির সেন্ট্রাল কমিটির পরিচালনায় কোনো ত্রুটি বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল কিনা, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।

অবশেষে, মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ভর করবে আদালতের সিদ্ধান্ত এবং বাদীর আপিলের ফলাফলের ওপর। যদি আপিল গ্রহণ করা হয়, তবে নতুন প্রমাণ সংগ্রহ এবং পুনরায় তদন্তের সম্ভাবনা রয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পারে।

প্রাণিকল্যাণ আইন অনুসারে, যদি বিষ ব্যবহার করে প্রাণীকে ক্ষতি করা প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আইনি শাস্তির মুখোমুখি হবে। এই নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে সমাজে প্রাণী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

বিবেচনা করা হচ্ছে যে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্থানীয় কমিউনিটি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনের কার্যকর বাস্তবায়নই মূল চাবিকাঠি হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments