ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সোমবার দুপুর ১১টায় ঢাকার ধানমন্ডি মাইডাস সেন্টারে টিআইবি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সাম্প্রতিক অধ্যাদেশগুলোকে সংস্কার‑বিমুখ এবং দায়মুক্তির সম্ভাবনা তৈরি করা হিসেবে সমালোচনা করেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, সরকার বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন ও নিজস্ব বিবেচনা অনুসারে একের পর এক অধ্যাদেশ জারি করলেও সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মৌলিক সুপারিশগুলো প্রায়শই উপেক্ষা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সংস্কারের নামে গড়ে তোলা নতুন আইনি কাঠামো প্রকৃতপক্ষে পুরোনো ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে এবং দায়িত্বশীলদের জন্য দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি করছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ মূল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বতন্ত্রতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কাঠামো এখনো গঠন করা হয়নি, এ কথাও তিনি তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামান ছাত্র-জনতার বৃহৎ প্রতিবাদ-অভ্যুত্থানের পর যে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা অন্তর্বর্তী সরকারের সাম্প্রতিক অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে উল্লেখ করেন।
হাজারেরও বেশি অধ্যাদেশ জারি করা সত্ত্বেও, বেশিরভাগই জুলাই ২০২৩-এ গৃহীত সনদের নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি উপেক্ষা করে, ফলে সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
বৈধ সংস্কার প্রক্রিয়ার বদলে পুরোনো আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নতুন রূপে প্রতিষ্ঠা করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যবস্তু সঙ্গে বিরোধপূর্ণ।
ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, সংস্কার‑প্রতিরোধী শক্তির মুখে অন্তর্বর্তী সরকার শুরুর থেকেই আত্মসমর্পণ করেছে এবং এই গোষ্ঠীর উপস্থিতি চিহ্নিত করে প্রতিহত করার কোনো কৌশল গড়ে তোলেনি।
ফলস্বরূপ, বহু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বাতিল হয়েছে এবং সংস্কার‑প্রতিরোধী মহলের প্রভাব বাড়ছে।
সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সরকার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ক্ষমতার ভিত্তিতে অ্যাডহক পদ্ধতি অনুসরণ করেছে, যার ফলে কম গুরুত্বপূর্ণ বা সংস্কার‑বিরোধী আইন ও নীতি গৃহীত হয়েছে।
সব সংস্কার কমিশনের কাছ থেকে সংগৃহীত দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশের ওপর সরকারী পদক্ষেপে বাস্তবিক কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি, শুধুমাত্র কিছু ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে সীমিত অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান এই পরিস্থিতি উল্লেখ করে ভবিষ্যতে সরকার যদি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গঠনের দিকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নেয়, তবে জনমত ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে সমালোচনা বাড়বে এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বাড়তে পারে।



