নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলার ইসদাইর রেলস্টেশন পার্শ্ববর্তী গলাচিপা এলাকায় সোমবার রাত আটটার দিকে ৪৫ বছর বয়সী রায়হান মিয়া ওরফে রোহানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ভিকটিম ছিলেন স্থানীয় বাবুর্চি, এবং ঘটনাস্থলে মাদক ব্যবসায়ী রাজ্জাক ও তার সহচরদের উপস্থিতি সন্দেহের মূল দিক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
রায়হান মিয়া গলাচিপা এলাকার মৃত মেছের আলীর পুত্র, তার মা কয়েক সপ্তাহ আগেই মৃত্যুবরণ করেন। বাকি তিন ভাই ও বাবা একসাথে তল্লা এলাকায় সিরাজ মিয়ার বাড়িতে ভাড়া ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন, যেখানে রায়হান বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন।
পরিবারের মতে, কয়েক দিন আগে রায়হানের বাবা ও স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী রাজ্জাকের মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তর্ক হয়। ঐ তর্কের সময় রাজ্জাক ও তার দল তার বাবাকে শারীরিকভাবে আঘাত করে, ফলে রায়হানের ভাইবোনরা রাজ্জাককে তাদের পরিবারের কাছ থেকে দূরে রাখতে অনুরোধ করে।
সোমবার রাতে, রায়হান একা বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার সময় রাজ্জাক ও তার সহযোগীরা হঠাৎ তার ওপর আক্রমণ চালায়। তারা তাকে কুপিয়ে গুরুতরভাবে আহত করে, পরে রাস্তায় ফেলে দেয়। ভিকটিমের গায়ে কাটা-ফাটা ও রক্তপাতের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা রায়হানকে রাস্তায় ফেলে থাকা অবস্থায় দেখেন এবং দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তার শ্বাস বন্ধ হওয়ায় মৃত ঘোষণা করেন।
ফতুল্লা মডেল থানা থেকে ওসি আব্দুল মান্নান জানান, ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মৃতদেহকে মর্গে পাঠিয়ে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
তদন্তে জানা যায়, রাজ্জাকের গ্যাং গত এক বছরে এলাকায় অন্তত চারজনকে হত্যা করেছে বলে স্থানীয় মানুষ অভিযোগ তুলেছে। এই পূর্বের হিংসা রায়হানের হত্যার পেছনে গ্যাংয়ের ভূমিকা বাড়িয়ে তুলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, একই সময়ে পুলিশের কাছ থেকে দ্রুত তদন্তের দাবি জানায়। কেউ কেউ রায়হানের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে, ভবিষ্যতে এ ধরনের হিংসা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়।
পুলিশের মতে, রাজ্জাক ও তার সহচরদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের করা হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। তদন্তে সহায়তা করতে ইচ্ছুক কোনো সাক্ষীর তথ্য দ্রুত জানাতে বলা হয়েছে।
এই ঘটনা স্থানীয় সমাজে শক সৃষ্টি করেছে এবং মাদক ব্যবসা ও গ্যাং হিংসার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় তুলে ধরেছে।



