পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ১১ জানুয়ারি রাতের ওরস মাহফিলে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও বিএনপি-সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, বিজয় নিশ্চিত করে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা বলে ঘোষণা করেন। তিনি গাছানী গ্রাম, বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের উপস্থিত শ্রোতাদের সামনে এই কথা বলেন, যেখানে তিনি নিজের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
নুর উল্লেখ করেন, “বিজয় আমাদের হয়েই গেছে” এবং বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি শুধু আনুষ্ঠানিকতা হবে”। তিনি নিজের দল ও সমর্থকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে চান এবং বলছেন, “আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই, আপনাদের নিয়ে কাজ করতে চাই”। তার মতে, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, আওয়ামী লীগ (যার কার্যক্রম নিষিদ্ধ), জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক ও ইসলামী দলের অংশগ্রহণ নৈতিক দায়িত্বের অংশ।
দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলাকে তিনি একটি রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছেন। নুরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, উভয় উপজেলায় সব দলের নেতাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় থাকবে। তিনি এ বিষয়ে জোর দিয়ে বলেন, “এখানে সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের অংশগ্রহণ থাকবে এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় থাকবে”।
গণতান্ত্রিক অধিকার সংক্রান্ত তার বক্তব্যে তিনি ব্যক্তিগত মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের অধিকারকে গুরুত্ব দেন। নুর স্পষ্ট করে বলেন, “কাউকে গায়ের জোরে বাধা দেওয়া, হামলা চালানো কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার রাজনীতি আমরা করি না”। তিনি ওয়াজ মাহফিল ও দোয়া মাহফিলকে দেশের সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এ ধরনের অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণকে স্বাভাবিক বলে গণ্য করেন।
অপরদিকে, নুর চাঁদাবাজি ও জনভোগান্তি মোকাবেলায় কঠোর অবস্থান নেন। তিনি উল্লেখ করেন, “উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষসহ সবাই নির্বিঘ্নে ব্যবসা করেন” এবং বলেন, “আমি ৫ আগস্টের পর থেকেই বলে আসছি, ব্যবসা পরিচালনা করতে কাউকে এক পয়সাও চাঁদা দিতে হবে না”। নুরের মতে, তার দলের কোনো সদস্য যদি চাঁদাবাজি বা জনভোগান্তির সঙ্গে জড়িত হয়, তাকে কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না।
নুরের এই বক্তব্যের পেছনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপট রয়েছে, যেখানে ১২ ফেব্রুয়ারি তার দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে চিহ্নিত। তার মন্তব্যগুলোকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবেশের সূচক হিসেবে দেখছেন; তিনি যদি তার দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হন, তবে দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলায় একধরনের মডেল অঞ্চল গড়ে উঠতে পারে, যা অন্যান্য অঞ্চলের জন্য উদাহরণস্বরূপ কাজ করতে পারে।
বিএনপি ও তার মিত্রদের জন্য নুরের এই দৃঢ় অবস্থান একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে তিনি সব দলকে একসঙ্গে কাজ করতে আহ্বান জানিয়ে রাজনৈতিক সমন্বয় ও ঐক্যের বার্তা দিচ্ছেন। তবে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায়, তার এই আহ্বানকে কিছু বিশ্লেষক সমালোচনামূলক দৃষ্টিতে দেখছেন, কারণ তারা প্রশ্ন তুলছে যে নিষিদ্ধ দলকে অন্তর্ভুক্ত করা কতটা বাস্তবসম্মত।
নুরের বক্তব্যের পর, উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে কিছুজন তার পরিকল্পনা ও লক্ষ্যকে স্বাগত জানিয়ে উৎসাহ প্রকাশ করেন, আবার অন্যরা তার প্রতিশ্রুতিগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো ও সম্পদের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে, নুর স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমরা কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা জনভোগান্তি সহ্য করব না” এবং এই নীতি অনুসরণে তিনি তার দলের সকল সদস্যকে কঠোরভাবে তদারকি করবেন।
সারসংক্ষেপে, নুরুল হক নুরের এই উক্তিগুলো তার রাজনৈতিক অবস্থানকে দৃঢ় করে এবং আসন্ন নির্বাচনের জন্য তার দলের প্রস্তুতিকে নির্দেশ করে। তিনি বিজয়কে নিশ্চিত করে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা বলে উল্লেখ করে, রাজনৈতিক সমন্বয়, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যবসায়িক স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন। ভবিষ্যতে এই পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হবে এবং কীভাবে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সামাজিক গোষ্ঠী এর সঙ্গে সঙ্গতি বজায় রাখবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



