নির্বাচন কমিশন ১২ জানুয়ারি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, পোস্টাল ব্যালেটের মাধ্যমে ভোট দিতে চাইলে তা কেবল দেশের ডাক বিভাগের চ্যানেলেই পাঠাতে হবে; অন্য কোনো মাধ্যম ব্যবহার করলে ভোট অকার্যকর বলে গণ্য হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোটারদেরকে তাদের পোস্টাল ব্যালেট সংশ্লিষ্ট দেশের ডাক পরিষেবা ব্যবহার করে প্রেরণ করতে হবে এবং প্রতিটি ব্যালেটে ইউনিক QR কোড ও ট্র্যাকিং সিস্টেম সংযুক্ত থাকবে। এই ব্যবস্থা ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছে।
ডাক বিভাগের চ্যানেল ব্যতীত অন্য কোনো পথে প্রেরিত পোস্টাল ব্যালেট রিটার্নিং অফিসারগণ গ্রহণ করবেন না, ফলে ভুল পথে পাঠানো ব্যালেটের ফলস্বরূপ ভোট বাতিল হবে।
এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রথমবারের মতো প্রবাসী নাগরিক, সরকারি চাকরিজীবী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং কারাদণ্ডে থাকা কায়দা-কারীদেরও পোস্টাল ব্যালেটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
পোস্টাল ব্যালেটের জন্য মোট ১৫,৩৩,৬৮৩ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন, যার মধ্যে ৭,৬১,১৪১ জন দেশীয় বাসিন্দা। বাকি ভোটাররা বিদেশে বসবাসকারী বা কাজের জন্য প্রবাসে গিয়ে আছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে, তবে পোস্টাল ব্যালেটের মাধ্যমে ভোটদান ২১ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে। এই সময়সীমা ভোটারদেরকে যথাযথ সময়ে ব্যালেট প্রেরণ ও গ্রহণের সুযোগ দেবে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে, ভোটারদেরকে পোস্টাল ব্যালেটের সঙ্গে সংযুক্ত QR কোড স্ক্যান করে ব্যালেটের অবস্থান ট্র্যাক করতে হবে। এই প্রযুক্তি ভোটের প্রক্রিয়াকে ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণযোগ্য করে তুলবে।
ডাক বিভাগও এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যালেটের নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করবে এবং রিটার্নিং অফিসারগণ ব্যালেট গ্রহণের পর তা যাচাই করে ভোটের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করবে।
পোস্টাল ব্যালেটের ব্যবহার বাড়ার ফলে ভোটার অংশগ্রহণের হার বৃদ্ধি পেতে পারে, বিশেষ করে প্রবাসী ও কারাগারভুক্ত ভোটারদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
অধিকন্তু, সরকারি কর্মী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য এই ব্যবস্থা তাদের দায়িত্বপূর্ণ কাজের সময়সূচি বজায় রেখে ভোটদানকে সহজ করবে।
নির্বাচন কমিশন উল্লেখ করেছে, পোস্টাল ব্যালেটের মাধ্যমে ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং কোনো ধরণের জালিয়াতি রোধে কঠোর নিয়মাবলী অনুসরণ করা হবে।
এই নতুন পদ্ধতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার আধুনিকীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত ভোটার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি করবে।
সামগ্রিকভাবে, পোস্টাল ব্যালেটের মাধ্যমে ভোটদান এখন কেবল দেশের ডাক পরিষেবা ব্যবহার করে সম্ভব, এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সঠিকভাবে ব্যালেট পাঠানোই ভোটের বৈধতা নিশ্চিত করবে।



