আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নিরাপত্তা সংক্রান্ত আসিফ নজরুলের দাবিকে সরাসরি খারিজ করেছে। বাংলাদেশ ক্রীড়া উপদেষ্টা এক সপ্তাহ আগে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগ থেকে প্রাপ্ত চিঠিতে বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকির ইঙ্গিত রয়েছে।
নজরুলের মতে, চিঠিতে তিনটি মূল কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমটি হল বাংলাদেশ দলে বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের অন্তর্ভুক্তি, যা নিরাপত্তা জটিলতা বাড়াতে পারে। দ্বিতীয়টি হল দেশের ভক্তদের জাতীয় জার্সি পরে স্টেডিয়ামে উপস্থিতি, এবং তৃতীয়টি হল আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি।
আইসিসির একটি সূত্র পিটিআইকে জানিয়েছে, বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড)কে পাঠানো কোনো বার্তায় মুস্তাফিজুরের নাম বা তার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কোনো সতর্কতা উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া, দলকে জাতীয় জার্সি পরিধান বা নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিতও দেওয়া হয়নি। সূত্রের মতে, এই দাবিগুলি ভিত্তিহীন।
আসিফ নজরুলের মন্তব্যের আগে, তিনি জানিয়েছিলেন যে আইসিসি নিরাপত্তা বিভাগ থেকে প্রাপ্ত চিঠিতে নির্দিষ্ট তিনটি উদ্বেগের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। তবে আইসিসি স্পষ্ট করে বলেছে, এমন কোনো চিঠি বা আনুষ্ঠানিক নোটিশ কখনো প্রকাশিত হয়নি। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগই না থাকায়, তার দাবিকে অস্বীকার করা হয়েছে।
এই বিতর্কের ফলে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কেও প্রভাব পড়েছে। আইপিএল (ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ) ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে মুস্তাফিজুর রহমানকে ছাড়া না দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর, বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিসিসিআই (ব্রিটিশ ক্রিকেট বোর্ড) এবং আইসিসি উভয়ই নিরাপত্তা বিষয়ক কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রকাশ না করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। ফলে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায়, সরকার কিছু ম্যাচ ভারতে না খেলে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের প্রস্তাবও দিয়েছে। তবে আইসিসি এখনো এই প্রস্তাবের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
বিশ্বকাপের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৮ মার্চ পর্যন্ত চলবে। এই সময়কালে ভারত ও শ্রীলঙ্কা উভয় দেশে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
আইসিসি উল্লেখ করেছে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো উদ্বেগ থাকলে তা সরাসরি সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তবে বর্তমান পর্যন্ত কোনো অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঘোষিত হয়নি।
বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের মন্তব্যের পর, বিসিবি নিরাপত্তা বিষয়ক কোনো পরিবর্তন বা অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেয়নি। দল এখনও মূল সূচি অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আইসিসি এবং বিসিবি উভয়ই নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একমত হয়েছে। উভয় সংস্থা বলেছে, ভবিষ্যতে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি উদ্ভূত হলে তা দ্রুত শেয়ার করা হবে।
সারসংক্ষেপে, আইসিসি আসিফ নজরুলের নিরাপত্তা উদ্বেগের দাবি অস্বীকার করেছে এবং কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি বা নোটিশের অস্তিত্ব নেই বলে জানিয়েছে। বিশ্বকাপের সূচি অপরিবর্তিত থাকবে, এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো নতুন তথ্য প্রকাশিত হলে তা সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে জানানো হবে।



