বিপিএল (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ) এখন পর্যন্ত ২৪টি ম্যাচ সম্পন্ন করেছে এবং ছয়টি দলে মোট চল্লিশজন বিদেশি ক্রিকেটার মাঠে নামেছেন। লিগের অর্ধেকের বেশি অংশ অতিক্রান্ত হওয়ায় এখনই প্রশ্ন ওঠে—বিদেশি খেলোয়াড়রা কি দলগুলোর ফলাফলে উল্লেখযোগ্য ছাপ ফেলেছেন, নাকি কেবল উপস্থিতি দেখিয়ে চলে গেছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত শীর্ষ দশ রান সংগ্রাহকের তালিকায় মাত্র চারজন বিদেশি নাম পেয়েছে। একইভাবে, শীর্ষ দশ বোলারদের তালিকায় বিদেশি খেলোয়াড়ের সংখ্যা তিনজনেই সীমাবদ্ধ। এই সীমিত উপস্থিতি মূলত বিদেশি ক্রিকেটারদের ধারাবাহিক ম্যাচ না খেলার ফলে ঘটেছে; অধিকাংশই স্বল্প সময়ের জন্য দলগুলোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বিদেশি খেলোয়াড়দের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে রঙপুর রাইডার্সের কোচ মিকি আর্থারের মন্তব্য উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, বিদেশি ক্রিকেটারদের দুটি দায়িত্ব থাকে: প্রথমত, তাদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দলের ফলাফলকে শক্তিশালী করা; দ্বিতীয়ত, স্থানীয় তরুণ খেলোয়াড়দের দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করা। এই দুই দিকই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে বিদেশি খেলোয়াড়দের উপস্থিতির মূল উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের উদাহরণে এই ধারণা স্পষ্টভাবে দেখা যায়। টুর্নামেন্টের শুরুর ঠিক এক দিন আগে দলের মালিকানা পরিবর্তনের ফলে দলটি অস্থির অবস্থায় ছিল এবং প্রাথমিকভাবে মাত্র দুইজন বিদেশি খেলোয়াড় নিয়ে শুরু করেছিল। তবুও, এই দুইজনের অবদান দলকে শীর্ষ দুই স্থানে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ইংল্যান্ডের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান অ্যাডাম রসিংটন এবং পাকিস্তানের পেসার আমির জামাল উভয়ই দলের পারফরম্যান্সে বড় প্রভাব ফেলেছেন। রসিংটন ছয়টি ম্যাচে প্রায় ১৪০ স্ট্রাইকের গতি দিয়ে ২৫৮ রান সংগ্রহ করেন, তবে টুর্নামেন্টের মাঝামাঝি সময়ে তিনি চোট পেয়ে শীঘ্রই বিদায় নেন।
ঢাকায় টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য ২০০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে এবং এটি ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কার্যকর হবে। টিকিটের এই দামের কাঠামো ভক্তদের জন্য প্রবেশযোগ্যতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে।
চট্টগ্রাম ছাড়া অন্যান্য দলে বিদেশি খেলোয়াড়দের অবদান তুলনামূলকভাবে কম। কিছু ম্যাচে তারা উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখিয়েও, ধারাবাহিকভাবে দলকে গড়ে তোলার মতো প্রভাব তৈরি করা কঠিন হয়েছে। ফলে, বিদেশি খেলোয়াড়দের সামগ্রিক ছাপ সীমিত বলে বলা যায়।
দ্বিতীয় ভূমিকা—স্থানীয় তরুণদের উন্নয়নে সহায়তা—সম্পর্কে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশারের মতামত স্পষ্ট। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সিজনে বিদেশি খেলোয়াড়রা স্থানীয় খেলোয়াড়দের গাইডেন্সে প্রত্যাশিত মাত্রা পূরণ করতে পারেননি। যদিও তিনি শুরুর দিকে টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য ছিলেন, তবে তার পর্যবেক্ষণে দেখা যায় বিদেশি খেলোয়াড়দের এই দিকের অবদান যথেষ্ট নয়।
লিগের বাকি ম্যাচগুলো শীঘ্রই শুরু হবে এবং দলগুলো এখন পর্যন্ত অর্জিত ফলাফলের ভিত্তিতে কৌশল নির্ধারণ করবে। বিদেশি খেলোয়াড়দের উপস্থিতি এবং পারফরম্যান্স কীভাবে পরবর্তী রাউন্ডে প্রভাব ফেলবে, তা ভক্তদের নজরে থাকবে।



