একজন বাংলাদেশি মেয়ে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের ২০২৮ সালের এমবিএ ক্লাসে ভর্তি হয়েছে, যা তার ব্যক্তিগত স্বপ্নের বাস্তবায়ন এবং দেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক সাফল্যের নতুন উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তার বেড়ে ওঠা একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবারে, যেখানে নারীর প্রধান লক্ষ্যকে প্রায়শই বিবাহের দিকে সীমাবদ্ধ করা হয়। এই সামাজিক প্রত্যাশা তাকে প্রাথমিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল যে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য কি কেবলমাত্র বিবাহই হতে পারে।
শিক্ষা, সৃষ্টিশীলতা এবং সমাজে অবদান রাখার ইচ্ছা তাকে ঐ সীমা অতিক্রম করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তিনি নিজের ভবিষ্যৎকে কেবল পারিবারিক দায়িত্বে সীমাবদ্ধ না রেখে, বিস্তৃত দিগন্তে দেখতে চেয়েছিলেন।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিয়মগুলোকে চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করেন, অন্যায়ের মুখে কণ্ঠ তুলতে ভয় পান না এবং নিজের নৈতিকতার সঙ্গে বিরোধপূর্ণ ধারণা গ্রহণে দ্বিধা বোধ করেন। এই অভ্যন্তরীণ সংগ্রাম তাকে নিজের মূল্য এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করে।
পরবর্তীতে তিনি বুঝতে পারেন যে এই প্রতিরোধমূলক মনোভাব আসলে স্ব-সচেতনতা এবং আত্ম-অন্বেষণের প্রাথমিক রূপ। নিজের পরিচয় ও লক্ষ্য নির্ধারণের এই প্রক্রিয়া তাকে ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তে দৃঢ়তা প্রদান করে।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি সমমনা বন্ধুদের সঙ্গে পরিচিত হন, যারা মতামতপ্রকাশে স্বচ্ছন্দ, সামাজিক সমস্যায় আগ্রহী এবং উদ্যোক্তা ধারণা নিয়ে আলোচনা করতে পছন্দ করে। একসাথে তারা প্রোগ্রামিং, ব্যবসা মডেল এবং সামাজিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে গভীর আলোচনা চালিয়ে যায়।
এই দলটি ২১ বছর বয়সে শাংহাইতে অনুষ্ঠিত বিশ্বের বৃহত্তম ছাত্র প্রতিযোগিতা হাল্ট পুরস্কারের আঞ্চলিক ফাইনালে জয়লাভ করে, যা তাদের আত্মবিশ্বাসকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। এই সাফল্য তাদের মধ্যে স্ববিচার এবং সাহসিকতার অভ্যাসকে দৃঢ় করে।
হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল প্রতি বছর প্রায় ১৫,০০০ আবেদন পায়, যার মধ্যে মাত্র প্রায় ৯০০ জনকে ভর্তি করা হয়। তার স্বীকৃতি কেবল একাডেমিক পারফরম্যান্স নয়, বরং স্ব-অনুপ্রেরণা, নেতৃত্বের গুণ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের সমন্বয়কে প্রতিফলিত করে।
এখন তিনি এমবিএ প্রোগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যেখানে তিনি শিখতে, নেটওয়ার্ক গড়তে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চান। তার লক্ষ্য হল অর্জিত জ্ঞানকে দেশে ফিরে উদ্যোক্তা ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যবহার করা।
বাংলাদেশের তরুণী ও তরুণদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ হল: নিজের স্বপ্নকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করুন, সমর্থনশীল বন্ধু ও মেন্টরের সঙ্গে যুক্ত হন এবং সুযোগের মুখে সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে যান, যদিও তা প্রচলিত পথের বাইরে হতে পারে।
আপনার জীবনের কোন দিকটি এখনো সীমাবদ্ধ মনে হচ্ছে, এবং কীভাবে আপনি সেই সীমা ভাঙতে পারেন, এই প্রশ্নটি নিজেকে জিজ্ঞাসা করা গুরুত্বপূর্ণ।



