ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচি ডিএসইএক্সে তালিকাভুক্ত একটি বহুজাতিক কোম্পানি, ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার, সাম্প্রতিক পর্যায়িক পর্যালোচনার পরে সূচি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপে একই সঙ্গে আর পনেরোটি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুনভাবে সূচিতে যোগ করা হয়েছে নয়টি শেয়ার, যার মধ্যে ছয়টি জেড ক্যাটেগরির এবং একটি বি, দুইটি এ ক্যাটেগরি অন্তর্ভুক্ত।
ডিএসই এক্সচেঞ্জের মতে, সূচি পুনর্গঠনটি নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে। ডিএসইএক্সে অন্তর্ভুক্ত হতে হলে কোনো কোম্পানির ফ্লোট-সংশোধিত বাজার মূলধন কমপক্ষে দশ কোটি টাকা এবং পূর্বের ছয় মাসে গড় দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ দশ লাখ টাকার বেশি হতে হবে। এই শর্ত পূরণ না করলে কোম্পানি সূচি থেকে বাদ পড়ে।
ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার, পূর্বে গ্ল্যাক্সো স্মিথক্লিন নামে পরিচিত, লিকুইডিটি মানদণ্ডে ব্যর্থ হয়েছে। শেষ ছয় মাসে শেয়ারের গড় দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ প্রয়োজনীয় সীমা অতিক্রম করতে পারেনি, ফলে সূচি থেকে অপসারণের শর্ত পূরণ হয়নি। অন্যদিকে, জেড ক্যাটেগরির বেশ কয়েকটি শেয়ার লেনদেনের পরিমাণে যথেষ্ট ছিল, যদিও তাদের আর্থিক ভিত্তি ও ডিভিডেন্ড প্রদানে দুর্বলতা রয়ে গেছে।
নতুন যোগ হওয়া শেয়ারগুলোর মধ্যে রয়েছে বি ডি ওয়েল্ডিং, ডি ই এস সি ও, ডুলামিয়া কটন, সাফকো স্পিনিং, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক্স এবং জিল বাংলা সুগার মিলস। এ ছাড়াও একটি বি ক্যাটেগরি এবং দুইটি এ ক্যাটেগরি কোম্পানি সূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। জেড ক্যাটেগরির এই প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত দুর্বল মৌলিক নীতি বা শাসনব্যবস্থার সমস্যার কারণে অপ্রদর্শনকারী হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার ২০২৪ সালে ৫২০ শতাংশ নগদ ডিভিডেন্ড প্রদান করলেও, লিকুইডিটি মানদণ্ডে ব্যর্থ হওয়ায় সূচি থেকে বাদ পড়ে। অন্যদিকে, নতুন যুক্ত জেড ক্যাটেগরির বেশিরভাগ শেয়ার শেয়ারহোল্ডারকে উল্লেখযোগ্য রিটার্ন দেয়নি। উদাহরণস্বরূপ, ডুলামিয়া কটন গত আর্থিক বছরে মাত্র তিন শতাংশ ডিভিডেন্ড প্রদান করেছে, যা প্রায় পনেরো বছর পর প্রথম ডিভিডেন্ড।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, সূচিতে দুর্বল আর্থিক অবস্থার শেয়ারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং একটি স্থিতিশীল বহুজাতিক কোম্পানিকে বাদ দেওয়া বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। এই প্রবণতা প্রমাণ করে যে বাজারে স্পেকুলেটিভ এবং নিম্নমানের শেয়ারের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে, যা সূচির সামগ্রিক গুণগত মানকে প্রভাবিত করতে পারে।
ডিএসই এক্সচেঞ্জের মতে, পুনর্গঠনটি সম্পূর্ণভাবে অবজেক্টিভ সূচক এবং লিকুইডিটি মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। তবে বাজার পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করছেন যে, সূচিতে জেড ক্যাটেগরির শেয়ার বেশি হলে বিদেশি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর আস্থা হ্রাস পেতে পারে। এই ধরনের পরিবর্তন সূচির পারফরম্যান্সকে বিকৃত করে, ফলে বিনিয়োগের ঝুঁকি বাড়ে।
ভবিষ্যতে ডিএসইএক্সের গঠন পুনরায় মূল্যায়ন করা হতে পারে, যাতে সূচিতে অন্তর্ভুক্ত শেয়ারগুলো আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং লিকুইডিটি উভয় মানদণ্ড পূরণ করে। বিনিয়োগকারীদের জন্য সুপারিশ করা হচ্ছে, সূচিতে অন্তর্ভুক্ত শেয়ার নির্বাচন করার সময় শুধুমাত্র লেনদেনের পরিমাণ নয়, কোম্পানির মৌলিক আর্থিক স্বাস্থ্যের ওপরও গুরুত্ব দিতে। এভাবে সূচি দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের আকর্ষণ বজায় রাখতে পারবে।



