দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের শেষের দিকে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পার্লামেন্টারী নির্বাচনের জন্য জামায়াত‑ই‑ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১টি পার্টির শীর্ষ নেতারা আজ একত্রিত হয়ে সিট‑শেয়ারিং চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জামায়াতের সহ-সচিব অহসানুল মাহবুব জুবায়ের মতে, লিয়াজন কমিটি প্রস্তাবনা প্রস্তুত করে শীর্ষ নেতাদের সামনে উপস্থাপন করবে এবং উভয়পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গৃহীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর, দুই দিনের মধ্যে একটি প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে মিডিয়াকে ফলাফল জানানো হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি) এর একজন নেতার তথ্য অনুযায়ী, পার্টির আমীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম সকল প্রার্থীকে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠকে উপস্থিত হতে নির্দেশ দিয়েছেন। আমীরের সিদ্ধান্তে, চুক্তি অনুযায়ী যেসব প্রার্থীকে সিট বরাদ্দ করা হবে তা ঘোষিত হবে এবং বাকি প্রার্থীদের প্রত্যাহার করতে বলা হবে।
পূর্বে উত্থান-পতনের পর, জামায়াত, আইএবি, খলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খলাফত আন্দোলন, নিজাম‑ই‑ইসলাম পার্টি, জাতীয় গনতান্ত্রিক পার্টি (জিএজিপিএ) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) একত্রে একটি যৌথ কর্মসূচি চালু করে সমান সুযোগের দাবি এবং জুলাই জাতীয় চাটার অধীনে নির্বাচন পরিচালনার আহ্বান জানায়।
এই আটটি দল পরবর্তীতে একটি নির্বাচনী জোট গঠন করে ৩০০টি সংসদীয় আসনে একক প্রার্থী দায়েরের ভিত্তিতে সিট‑শেয়ারিং নীতি গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) এবং এবি পার্টি এই জোটে যুক্ত হয়ে মোট ১১টি পার্টির সমন্বয়ে একটি বৃহৎ জোট গঠন করে।
আভ্যন্তরীণ সমীক্ষা অনুযায়ী, জামায়াত প্রায় ১৯০ থেকে ২০০টি আসন নিজের দখলে রাখতে চায় এবং বাকি আসনগুলো অন্যান্য জোটের সঙ্গে আলোচনা করে ভাগাভাগি করার পরিকল্পনা করেছে। সমীক্ষা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জামায়াতের শক্তিশালী জয়ী সম্ভাবনা রয়েছে এমন ১৭০ থেকে ১৭৫টি আসন চিহ্নিত করা হয়েছে, আর অতিরিক্ত ২০টি আসনে জোটের পক্ষ থেকে যথাযথ প্রার্থী না থাকায় জামায়াত নিজস্ব প্রার্থী দায়েরের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
সর্বশেষ সূত্রে জানা যায়, জামায়াত আইএবিকে ৪০টি আসন, এনসিপিকে ৩০টি আসন, বাংলাদেশ খলাফত মজলিসকে ১২ থেকে ১৫টি আসন, খলাফত মজলিসকে ৭টি আসন, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে ৪টি আসন এবং অন্যান্য কয়েকটি পার্টিকে ৩টি করে আসন বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবগুলো জোটের অভ্যন্তরে আলোচনার পর চূড়ান্ত রূপ নেবে এবং নির্বাচনের আগে একাধিক পার্টি একত্রে একক প্রার্থী দায়েরের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে সমন্বিত বার্তা পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখবে।
সিট‑শেয়ারিং চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, জোটের নেতৃত্ব নির্বাচনী কৌশল, প্রার্থী নির্বাচন এবং প্রচারাভিযানের পরিকল্পনা নির্ধারণের জন্য একাধিক কর্মশালা এবং সমন্বয় সভা আয়োজনের কথা জানিয়েছে। এই প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে, পার্টিগুলো একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করে ভোটারদের কাছে একসঙ্গে একটি পরিষ্কার ও ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ উপস্থাপন করবে, যা ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জোটের পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই জোটের গঠন এবং সিট‑শেয়ারিং চুক্তি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপথ তৈরি করবে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা প্রকাশ করছেন, তবে জোটের অভ্যন্তরে সিটের বণ্টন ও প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তা এখনও পর্যবেক্ষণের বিষয়।



