নেটফ্লিক্সে সম্প্রতি প্রকাশিত ‘দ্য মেকিং অব স্ট্রেঞ্জার থিংস ৫’ ডকুমেন্টারিটি সিরিজের শেষ মৌসুমের পেছনের কাজকে বিশদভাবে তুলে ধরেছে। মার্টিনা রাদওয়ান পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি ডাফার ভাইদের চূড়ান্ত সিজনের সব দিকের ওপর পূর্ণ প্রবেশাধিকার পেয়েছে এবং শো শেষ হওয়ার পরেও ভক্তদের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করে। ডকুমেন্টারিটি দুই ঘণ্টার বেশি সময়ের, তবে সময়ের সীমাবদ্ধতা থাকা দর্শকদের জন্য হলিউড রিপোর্টারের সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপও উপলব্ধ।
প্রথমে প্রকাশিত হয়েছে যে উইল বাইয়ার্স (নোয়া শ্ন্যাপ) শেষ সিজনে অপ্রত্যাশিতভাবে অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা প্রদর্শন করে। ডকুমেন্টারিতে দেখা যায়, উইল একটি নির্দিষ্ট পরিসরে ভেকনা (শ্রেণীর প্রধান ভিলেন) এর শক্তি চ্যানেল করতে সক্ষম, যা শোয়ের পূর্বের কোনো সূত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। এই প্রকাশটি শোয়ের শেষ পর্বের অন্যতম চমকপ্রদ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং সিরিজের গল্পে নতুন দিক যোগ করেছে।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল, শেষ সিজনের দীর্ঘ এক শটের দৃশ্যটি প্রকৃতপক্ষে পাঁচটি আলাদা শটকে একত্রিত করে তৈরি করা হয়েছিল। ডকুমেন্টারিতে স্টান্ট টিমের ব্যাখ্যা অনুসারে, এই সংযোজনের জন্য বিশেষ এডিটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা দর্শকের কাছে একটানা এক শটের মতো মনে হয়। শটগুলোকে নিখুঁতভাবে মেলাতে ছয় সপ্তাহের প্রস্তুতি সময় লেগেছে, যার মধ্যে ক্যামেরা কোণ, আলো এবং অভিনেতাদের চলাচল সমন্বয় করা হয়েছে।
তৃতীয় দিকটি হল স্টান্ট কো-অর্ডিনেটর এবং টিমের কাজের বিশদ বিবরণ। চূড়ান্ত দৃশ্যের জন্য প্রায় ছয় সপ্তাহের কঠোর প্রস্তুতি দরকার ছিল, যেখানে বাস্তবিক স্টান্ট, প্রপ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সবই হাতে হাতে তৈরি করা হয়েছিল। এই সময়ে দলটি ভেকনার শক্তি প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ প্রপ এবং সেটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহু রিহার্সাল করে। শেষ পর্যন্ত এই প্রচেষ্টা শোয়ের দশ বছরব্যাপী নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
চতুর্থ পর্যবেক্ষণটি ডেমোগর্গনদের উপস্থিতি নিয়ে। ডকুমেন্টারিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শোয়ের মূল শুটিং পর্যায়ে ডেমোগর্গনগুলো উপস্থিত ছিল না; তারা পোস্ট-প্রোডাকশনে ডিজিটালভাবে যুক্ত করা হয়েছে। এই পদ্ধতি শুটিং সময়ের সীমাবদ্ধতা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করেছে, তবে একই সঙ্গে ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে।
পঞ্চম এবং শেষ মূল তথ্যটি ভেকনার সঙ্গে চূড়ান্ত লড়াইয়ের সময় ব্যবহৃত সরঞ্জাম নিয়ে। মূল স্ক্রিপ্টে মাইক (ফিন ওলফহার্ড) গুলি চালানোর জন্য বন্দুক চেয়েছিল, তবে শেষ মুহূর্তে তাকে ফ্লেয়ার দিয়ে সরবরাহ করা হয়। ডকুমেন্টারিতে এই পরিবর্তনকে বাস্তব জীবনের জরুরি সাহায্য কিটের একটি উপাদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা শুটিংয়ের সময় অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হয়। এই ঘটনা শোয়ের কাহিনীতে বাস্তবতা ও কল্পনার মিশ্রণকে তুলে ধরে।
ডকুমেন্টারিটি মোটামুটি দুই ঘণ্টা দীর্ঘ হলেও, ভক্তদের জন্য এটি একটি মূল্যবান রিসোর্স। শোয়ের শেষের পরেও সিরিজের পেছনের কাজের প্রতি আগ্রহ বজায় রাখতে ইচ্ছুক দর্শকরা এতে পাওয়া বিশদ তথ্য থেকে উপকৃত হতে পারে। সময়ের অভাবে পুরো ডকুমেন্টারি না দেখলেও, হলিউড রিপোর্টারের সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপে প্রধান পাঁচটি পয়েন্ট সহজে বোঝা যায়।
ডকুমেন্টারির প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে নেটফ্লিক্সে স্ট্রেঞ্জার থিংসের শেষ সিজনের পুনরায় দেখার সুযোগও উন্মুক্ত হয়েছে, যা ভক্তদের জন্য অতিরিক্ত আনন্দের উৎস। সিরিজের সমাপ্তি যদিও অনেকের জন্য বিচ্ছেদের অনুভূতি জাগিয়ে তুলেছে, তবে এই ডকুমেন্টারির মাধ্যমে শোয়ের সৃষ্টিকর্তারা তাদের কাজের পেছনের গল্প শেয়ার করে একটি নতুন সংযোগ গড়ে তুলেছেন।
সারসংক্ষেপে, ‘দ্য মেকিং অব স্ট্রেঞ্জার থিংস ৫’ ডকুমেন্টারিটি শোয়ের শেষ অধ্যায়ের পেছনের সৃজনশীল প্রক্রিয়া, প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এবং অনন্য গল্পের মোড়গুলোকে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করে। ভক্তদের জন্য এটি একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা এবং সিরিজের ঐতিহ্যকে ভবিষ্যতে কীভাবে সংরক্ষণ করা যায়, তা নিয়ে ভাবার সুযোগ দেয়।



