যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান স্যার রিচার্ড নাইটন পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা কমিটিতে জানিয়েছেন, দেশের সামরিক প্রস্তুতি সম্পূর্ণ যুদ্ধের মুখোমুখি হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। তিনি এই মন্তব্য করেন সোমবারের সেশনে, যেখানে তিনি সরকারী প্রতিরক্ষা ব্যয় পরিকল্পনার সম্ভাব্য ঘাটতি সম্পর্কে প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গেছেন।
মন্ত্রণালয়গত সূত্র অনুযায়ী, পরবর্তী চার বছর ধরে প্রয়োজনীয় ব্যয় পূরণে অতিরিক্ত ২৮ বিলিয়ন পাউন্ডের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনার পুনর্লিখনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই তথ্য প্রথমে কিছু প্রধান সংবাদপত্রে প্রকাশ পায়, যা সরকারের ব্যয় পরিকল্পনার পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দেয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল পরিকল্পনা গত শরতে প্রকাশের কথা ছিল, তবে তা এখনো বিলম্বিত হয়েছে। স্যার নাইটন কমিটিতে উল্লেখ করেন, পরিকল্পনা প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ তিনি জানাতে পারছেন না, তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগটি এখনো কাজের তীব্রতা বাড়িয়ে চলেছে।
রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনঃনির্বাচনের পর, ন্যাটো সদস্য দেশগুলোতে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপে তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাজ্যও এই আন্তর্জাতিক পরিবেশে তার সামরিক সক্ষমতা শক্তিশালী করার জন্য চাপের মুখে রয়েছে।
গত বছর লেবার পার্টি সরকার সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যয় জাতীয় আয়ের ২.৩% থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে ২.৫% করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যা প্রতি বছর প্রায় ছয় বিলিয়ন পাউন্ডের অতিরিক্ত ব্যয় নির্দেশ করে। এছাড়া, ২০৩৫ সালের মধ্যে এই অনুপাত ৩.৫% পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা নতুন অস্ত্র, সরঞ্জাম এবং অবকাঠামো কীভাবে অর্থায়ন করা হবে এবং কোন ক্ষেত্রগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে তা নির্ধারণের জন্য তৈরি করা হবে। এই পরিকল্পনা না থাকলে, সামরিক আধুনিকায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতিতে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
অন্যান্য সূত্রের মতে, স্যার নাইটন ক্রিসমাসের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এবং চ্যান্সেলরের সঙ্গে এই ২৮ বিলিয়ন পাউন্ডের ঘাটতি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তিনি ডিসেম্বর মাসে লেবার পার্টির নেতা স্যার কেয়ার স্টারমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পরিকল্পনা সংক্রান্ত গোপনীয় বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছেন, তবে তিনি তা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে অস্বীকার করেন।
বর্ধিত ব্যয় সত্ত্বেও, তিনি উল্লেখ করেন যে বর্তমান বাজেটের সীমাবদ্ধতার মধ্যে সবকিছু দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তাই, মন্ত্রীদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং বিভিন্ন অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে সমঝোতা করতে হবে।
মন্ত্রণালয় দীর্ঘদিন ধরে ব্যয় সমন্বয় এবং অগ্রাধিকার নির্ধারণে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আসন্ন পার্লামেন্টের অধিবেশনগুলোতে এই বিষয়গুলোতে আরও বিশদ আলোচনা হবে, যা ভবিষ্যতে সরকারী প্রতিরক্ষা নীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



