ইরানের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা জাফর পানাহি পাম স্প্রিংস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণকারী আন্তর্জাতিক পরিচালকদের প্যানেলে তার মতামত শেয়ার করেন। তিনি ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও আদর্শিক অবস্থা সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেন এবং দেশের ব্যাপক প্রতিবাদকে অনিবার্য বলে উল্লেখ করেন।
প্যানেলে তিনি ইরানের শাসনব্যবস্থা বহু ক্ষেত্রে পতনের সম্মুখীন, বিশেষত বিদেশী নীতি ও অভ্যন্তরীণ শাসন কাঠামোতে ব্যর্থতা লক্ষ্য করা যায়, এ কথা জোর দিয়ে বলেন। তার মতে, সরকার যখন জনগণের চাহিদা উপেক্ষা করে এবং জোরপূর্বক দমন নীতি চালিয়ে যায়, তখন প্রতিবাদ স্বাভাবিকভাবে বাড়ে।
পানাহি বর্তমানে তার পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র “ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান এক্সিডেন্ট” এর আন্তর্জাতিক অস্কার প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা ক্যান্সে প্যাল্ম ডি’ওর জয়ী হয়েছিল। তিনি এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ইরানের সামাজিক বাস্তবতা ও মানবিক দৃষ্টিকোণ তুলে ধরতে চান।
তিনি ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের ক্ষমতা বজায় রাখার মূল কারণ হিসেবে কঠোর দমন নীতি উল্লেখ করেন। তার মতে, সশস্ত্র জোর ব্যবহার না করলে শাসনব্যবস্থা দ্রুত ভেঙে পড়ত, তাই বর্তমান দমনই তাদের ক্ষমতা বজায় রাখার একমাত্র হাতিয়ার।
পানাহি ভবিষ্যতে যদি সরকার দ্রুত রাজনৈতিক অস্থিরতা থামাতে ব্যর্থ হয়, তবে ব্যাপক গণহত্যা হতে পারে, এ বিষয়ে সতর্ক করেন। তিনি অতিরিক্ত এক বা দুই বছর অস্থিরতা চললে আবার নতুন উত্থান দেখা দেবে, এবং এমন অবস্থা দীর্ঘমেয়াদে কোনো রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখতে পারে না, তা উল্লেখ করেন।
ডিসেম্বর ২০২৫-এ ইরানে অনুপস্থিতিতে তাকে এক বছরের কারাদণ্ডে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তবুও তিনি জানান, শীঘ্রই দেশে ফিরে যাবার ইচ্ছা রয়েছে, কারণ বিদেশে তিনি নিজেকে পর্যটকই মনে করেন, নিজের মাটিতে ফিরে না গেলে আত্মিক শূন্যতা অনুভব করেন।
পানাহি বলেন, নিজের দেশের সংস্কৃতি ও মানুষের সঙ্গে সংযোগ ছাড়া অন্য কোনো দেশে তিনি স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারেন না। তিনি ইরানের চলচ্চিত্র শিল্পে অবদান রাখতে এবং দেশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যেতে চান।
এই মন্তব্যগুলো ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করে এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সম্প্রদায়ের মনোযোগকে ইরানের অভ্যন্তরীণ সমস্যার দিকে আকর্ষণ করে। তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা দেশের শিল্প ও সমাজে নতুন আলো জ্বালানোর সম্ভাবনা তৈরি করে।



