একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, কুইন বম্বলবীডের জিহ্বার চুলের ঘনত্ব কম থাকায় তারা নেক্টার সংগ্রহে কর্মী মৌমাছির তুলনায় কম কার্যকরী। গবেষণাটি শেনঝেনের সান ইয়াট‑সেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা বাফ‑টেইল্ড বম্বলবীডের (Bombus terrestris) জিহ্বা বিশ্লেষণ করে প্রকাশ করেছেন।
বম্বলবীডের সমাজে রাণী প্রথমে নিজের জন্য ফুলের নেক্টার গিলিয়ে পুষ্টি সংগ্রহ করে, তবে গৃহস্থালি প্রতিষ্ঠা এবং ডিম ফোটার পর কর্মী মৌমাছিরা বহির্ভূত শিকারের দায়িত্ব নেয়। এই ভূমিকা বিভাজন কীভাবে শারীরিক গঠন দ্বারা নির্ধারিত হয়, তা গবেষণার মূল প্রশ্ন ছিল।
মাইক্রোস্কোপিক পরিমাপ অনুযায়ী, বম্বলবীডের জিহ্বার দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ মিমি থেকে ১০ মিমি পর্যন্ত পরিবর্তিত হয়। রাণীর জিহ্বা সাধারণত কর্মীর তুলনায় দীর্ঘতর, তবে দৈর্ঘ্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুলের ঘনত্ব হ্রাস পায়।
স্ক্যানিং ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের ছবি দেখায় যে, রাণীর জিহ্বায় চুলের সংখ্যা কর্মীর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। চুলের মধ্যে ফাঁকা স্থান বেশি থাকায় তরল ধরা কঠিন হয়ে যায়।
উচ্চগতির ভিডিও রেকর্ডিংয়ে কৃত্রিম নেক্টারযুক্ত টিউব থেকে শোষণ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ফলাফল থেকে স্পষ্ট হয় যে, রাণীর জিহ্বা তরলকে ধরা ও ধরে রাখার ক্ষেত্রে কর্মীর তুলনায় ধীর এবং কম দক্ষ।
চুলের কাজকে ক্ষুদ্র স্পঞ্জের মতো বিবেচনা করা হয়। প্রতিটি চুলের দৈর্ঘ্য কয়েক শত মাইক্রোমিটার, এবং ঘনিষ্ঠভাবে সাজানো চুলের মধ্যে সূক্ষ্ম ফাঁক তৈরি হয়, যা পৃষ্ঠের টান দ্বারা নেক্টারকে আটকে রাখে। চুলের ঘনত্ব কম হলে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
গবেষকরা উল্লেখ করেন, রাণীর জিহ্বার চুলের ঘনত্ব কম হওয়া একটি নতুন শারীরিক কারণ, যা শিকারের দায়িত্বের স্বাভাবিক বিভাজনে প্রভাব ফেলে। পূর্বে শুধুমাত্র রাণীর গর্ভধারণ ও কলোনি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বকে প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হতো।
অন্যদিকে, রাণীর গৃহস্থালি কাজ, যেমন ডিমের যত্ন ও কলোনি রক্ষণাবেক্ষণ, তাদেরকে গৃহে সীমাবদ্ধ রাখে। তবে এই গবেষণা দেখায় যে, জিহ্বার গঠনও রাণীর জন্য শিকারের কাজ থেকে দূরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
বম্বলবীডের মতো মূল পরাগায়নকারী মৌমাছির শারীরিক বৈশিষ্ট্য বোঝা, তাদের পরিবেশগত ভূমিকা ও সংরক্ষণ কৌশল নির্ধারণে সহায়ক। জিহ্বার চুলের ঘনত্বের পার্থক্য কীভাবে পরাগায়নের দক্ষতাকে প্রভাবিত করে, তা ভবিষ্যৎ গবেষণার বিষয় হতে পারে।
এই ফলাফল থেকে স্পষ্ট হয় যে, মৌমাছির সমাজে শারীরিক গঠন ও আচরণ একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। রাণীর জিহ্বা দীর্ঘ হলেও চুলের ঘনত্ব কম থাকলে তারা স্বাভাবিকভাবে শিকারের কাজ থেকে দূরে থাকে, যা কলোনির সামগ্রিক কার্যক্রমে সমন্বয় বজায় রাখে।
বিবেচনা করা উচিত যে, বন্য বম্বলবীডের বাসস্থান রক্ষা ও ফুলের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করার মাধ্যমে তাদের শিকারের পরিবেশ উন্নত করা যায়। এভাবে রাণী ও কর্মী উভয়ের জন্য উপযুক্ত শর্ত তৈরি হবে এবং পরাগায়নের কার্যকারিতা বাড়বে।
আপনার আশেপাশের বাগানে ইলিশ, জবা, গাঁদা ইত্যাদি নেক্টার সমৃদ্ধ ফুল রোপণ করলে বম্বলবীডসহ বিভিন্ন পরাগায়নকারী মৌমাছির জন্য নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ হবে, যা পরিবেশের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।



