Anthropic কোম্পানি আজ Claude Cowork নামের একটি নতুন প্রিভিউ ফিচার প্রকাশ করেছে, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদেরকে তাদের কম্পিউটারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কাজ স্বয়ংক্রিয় করার সুযোগ দেয়। এই সেবা ব্যবহারকারীকে একটি ফোল্ডার নির্বাচন করে AI‑কে সেই ফোল্ডারের ফাইলগুলো পড়া, সম্পাদনা করা বা নতুন ফাইল তৈরি করার অনুমতি দেয়।
Claude Code প্রকল্পের ভিত্তিতে তৈরি এই ফিচারটি ২০২৪ সালের শরৎকালে শুরু হওয়া AI মডেল প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতা, যেখানে মেশিনকে মানবের মতো কম্পিউটার পরিচালনা শেখানো হয়। পূর্বে এই প্রযুক্তি প্রধানত ডেভেলপারদের জন্য কোডিং কাজ স্বয়ংক্রিয় করতে ব্যবহৃত হতো, তবে এখন এটি সাধারণ ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন কাজেও প্রয়োগ করা হবে।
Cowork ব্যবহারকারীকে ফোল্ডার অনুমতি দেওয়ার পর ফাইলের নাম পরিবর্তন, ফাইল সরানো বা নতুন ডকুমেন্ট তৈরি করার কাজ AI স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করে। ব্যবহারকারীকে আলাদা করে কমান্ড লিখতে হয় না; একবার অনুমতি দিলে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
উদাহরণস্বরূপ, ডাউনলোড ফোল্ডারের সব ফাইলকে একসাথে পুনঃনামকরণ করা সম্ভব, যাতে ফাইলের নামগুলো এক নজরে বোঝা যায়। ব্যবহারকারী শুধু “ডাউনলোড ফোল্ডারটি সাজিয়ে দাও” বলে দিলে AI ফাইলের ধরন ও তারিখ অনুযায়ী নাম পরিবর্তন করে।
আরেকটি ব্যবহারিক দৃশ্য হল রসিদ ও ইনভয়েসের স্ক্রিনশটকে স্প্রেডশিটে রূপান্তর করা। ব্যবহারকারী স্ক্রিনশট আপলোড করলে AI ছবির টেক্সট শনাক্ত করে, তা টেবিল ফরম্যাটে সাজিয়ে এক্সেল বা গুগল শিটে সংরক্ষণ করে। এই প্রক্রিয়া ম্যানুয়াল ডেটা এন্ট্রি সময়কে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।
ওয়েবসাইট নেভিগেশনও এখন AI‑এর মাধ্যমে সম্ভব, তবে এর জন্য Chrome ব্রাউজার প্লাগইন ইনস্টল করতে হয়। প্লাগইন সক্রিয় হলে Claude ব্যবহারকারীকে নির্দিষ্ট কাজের জন্য ওয়েব পেজে ক্লিক, স্ক্রল বা ডেটা সংগ্রহের নির্দেশ দিতে পারে, এবং ফলাফল সরাসরি ব্যবহারকারীর ডিভাইসে সংরক্ষণ করে।
Anthropic-এর Connectors ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে AI Canva, Notion ইত্যাদি তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ্লিকেশনেও প্রবেশ করতে পারে। ফলে ব্যবহারকারী গ্রাফিক ডিজাইন, নোট নেওয়া বা টাস্ক ম্যানেজমেন্টের কাজকে AI‑এর সাহায্যে স্বয়ংক্রিয় করতে পারবে।
Cowork-এর মূল লক্ষ্য হল AI ব্যবহারকে যতটা সম্ভব সহজ করা, যাতে ব্যবহারকারীকে বারবার প্রসঙ্গ প্রদান বা আউটপুটকে ম্যানুয়ালি ফরম্যাট করতে না হয়। ব্যবহারকারী একাধিক কাজ একসাথে কিউতে যুক্ত করতে পারে, আর AI সেগুলোকে সমান্তরালভাবে প্রক্রিয়া করে। এই পদ্ধতি কাজের গতি বাড়ায় এবং ব্যবহারকারীর হস্তক্ষেপ কমায়।
সুরক্ষার দিক থেকে Anthropic জোর দিয়ে বলছে যে AI শুধুমাত্র সেই ফাইল ও ফোল্ডারে প্রবেশ করতে পারবে, যেগুলোর জন্য ব্যবহারকারী স্পষ্টভাবে অনুমতি দিয়েছে। ব্যবহারকারী যদি কোনো ফোল্ডার না শেয়ার করেন, তবে AI তা দেখতে বা পরিবর্তন করতে পারবে না।
তবে কোম্পানি স্বীকার করেছে যে AI ভুল নির্দেশনা ব্যাখ্যা করে অনিচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল মুছে ফেলতে পারে বা অন্য কোনো ধ্বংসাত্মক কাজ করতে পারে। তাই ব্যবহারকারীকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে এবং শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ফাইলের জন্যই অ্যাক্সেস অনুমতি দিতে হবে।
Anthropic ব্যবহারকারীদেরকে পরামর্শ দিচ্ছে যে, গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ব্যাকআপ রেখে, সীমিত ফোল্ডার দিয়ে প্রথমে ফিচারটি পরীক্ষা করা উচিত। এইভাবে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমিয়ে, AI‑এর সুবিধা পুরোপুরি উপভোগ করা যাবে।
প্রযুক্তি জগতে AI‑এর এই ধরণের সরলীকরণ দৈনন্দিন কাজকে দ্রুততর ও কম শ্রমসাধ্য করে তুলতে পারে। ফাইল সংগঠন, রসিদ প্রক্রিয়াকরণ বা ওয়েব রিসার্চের মতো পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলো এখন কয়েক সেকেন্ডে সম্পন্ন হবে, ফলে ব্যবহারকারী সময় সাশ্রয় করে আরও সৃজনশীল কাজের দিকে মনোযোগ দিতে পারবে।
সারসংক্ষেপে, Anthropic-এর Claude Cowork সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য AI‑এর ক্ষমতাকে সরাসরি কম্পিউটারে আনছে, যা কাজের দক্ষতা বাড়াবে এবং প্রযুক্তি গ্রহণের বাধা কমাবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ফিচার আরও বিস্তৃত হয়ে বিভিন্ন সফটওয়্যার ও সেবার সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে, যা ডিজিটাল জীবনের রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করবে।



